নিজস্ব প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে হুগলিতে গিয়েছিলেন সাংসদ রচনা বন্দোপাধ্যায়। এদিন হুগলির বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে মিড ডে মিলের খাবার চেখে দেখেন তিনি। শুধু তাই নয়, তেল-মশলা ছাড়া খাবার খেয়ে রাঁধুনিদের প্রশংসা ও করলেন তিনি। বললেন, দারুণ হয়েছে। এদিন প্রথমে চুঁচুড়ার দু’টি কলেজে যান রচনা বন্দোপাধ্যায়।এরপর চুঁচুড়ার জ্যোতিষচন্দ্র, গরবাটি, অনুকুলচন্দ্র স্কুলও পরিদর্শন করেন। সেখানে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এমনকী জ্যোতিষচন্দ্র স্কুলে মিড ডে মিলের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন রচনা।
বাচ্চাদের জন্যে কীভাবে রান্না করা হয় দেখেন। সঙ্গে ফুলকপির ডালনা আর ভাত খেয়ে রচনা রাঁধুনিদের প্রশংসা করে বলেন, “দশে দশ। তেল-মশলা ছাড়া এত ভাল রান্না আগে কোনও দিন খাইনি। ডাল পছন্দ করি না। তাই ফুলকপির ডালনা দিয়েই সব ভাত খেয়েছি। মিড ডে মিল যাঁরা রান্না করেন, তাঁরা খুব সুন্দর রান্না করেন। বাচ্চাদের জন্য খুব ভাল খাবার তৈরি করছেন স্কুলের দিদিরা। রান্নাঘরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।” আসলে এদিন মিডডেমিলে প্রতিটি স্কুল পড়ুয়া ঠিকঠাক মতো খাবার পাচ্ছে কিনা, তা দেখতেই সাংসদ রচনা বন্দোপাধ্যায় স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার আগে থেকেই হুগলির মানুষদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী সাংসদ রচনা বন্দোপাধ্যায়। ভোট প্রচারে বেরিয়ে কখনও হুগলির মিষ্টি দই খেয়েছেন, কখনও গ্রামবাসীদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করছেন, আবার কখনও হুগলির ঘুগনি-মুড়ি, জলভরা সন্দেশের প্রেমে পড়েছেন তিনি, পাশাপাশি হুগলির মা-বোনদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন বাংলার ‘দিদি নং 1’। আর সেই প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী ফলাফলে। হুগলির প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে হারিয়ে হুগলির নয়া সাংসদ হয়েছেন রচনা। রাজনীতিতে নেমেই ছক্কা হাঁকিয়েছেন নায়িকা। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি কেরিয়ার শুরুতেই একের পর এক গোল দিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী সাংসদ। নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই হুগলি তাঁর আরেকটি ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এমনকী সমস্ত উৎসবেও তিনি অভিভাবক হয়ে হুগলিবাসীর ছাদ হয়ে থেকেছেন। প্রশাসনিক কারণে নিয়মিত হুগলিতে যাতায়াত রচনা বন্দোপাধ্যায়ের। একদিকে পেশাগত দিদি নং ১-এর শুটিং, অন্যদিকে সাংসদ হিসেবে হুগলির দেখভাল সবটাই সমানতালে সামলাচ্ছেন নায়িকা।