নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়ের বাজারে দাম বেড়েছে বেসরকারি চাকরিজীবীদের। একসময় এই ক্ষেত্রে কান পাতলেই শোনা যেত ছেলে বা মেয়ে কী সরকারি চাকরি করে? সরকারি চাকরি না করলে তুমি এলিজেবল নও। আর স্কুলের চাকরি হলে তো সোনায় সোহাগা। ১০-৫টার চাকরি, নির্দিষ্ট ছুটি, শিক্ষকের সম্মান। একসঙ্গে জুটে যায় সবকিছুই। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালতের এক রায়ই বদলে দিয়েছে গোটা বাজারটাই।
এখন সরকারি চাকরি শুনলেই বিয়ে তে রাজি হচ্ছেন না কোনও পরিবার। আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। কে জানে কখন নেমে আসে খাঁড়া। যোগ্য মানুষই কখন অযোগ্য হয়ে যায় তা আর বলা যায় না। তাই সেই কারণে কেউ ছেলে বা মেয়েকে সরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে বিয়ে দিতে চাইছেন না।
একটা সময় ছিল, বেসরকারি চাকরির নাম শুনলেই কপালে দেখা যেত ভ্রুকূটি। সু্প্রিমরায় এক সেকেন্ডে বদলে দিয়ে সেই পরিস্থিতি। ঘটকের কাছে এখন শুধুই বেসরকারি চাকরিজীবীদের চাহিদা। বিয়ের বাজারের এই পালাবদলে চমকে উঠছেন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পেশাদার ম্যাচমেকাররা। দীর্ঘ ঘটকালির জীবনে এই ধরনের চাহিদা বিরলের মধ্যে বিরলতম। আবার কোথাও কোথাও চাহিদা শুধু কেন্দ্র সরকারের চাকরির।
সরকারি চাকরির চাহিদা বদলে গিয়েছে উচ্চপদস্থ বেসরকারি চাকরিজীবী জামাই বা বউমার ক্ষেত্রে। এখন কেউই চাইছেন না সরকারি চাকরি। রাজ্য সরকারের চাকরি তো নট অ্যালাও-র পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। চাকরি আজ আছে, কাল নেই। যে স্থায়ীত্বের জন্য সরকারি চাকরি এত দম্ভ, তা সুপ্রিম খোঁচায় হয়ে গিয়েছে চুর চুর। রাজ্য জুড়ে এখন একই ছবি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই এই বিপুল পরিবর্তন অবাক করার মতই। যে বেসরকারি চাকরিজীবীদের এতদিন মানুষ বলেই মনে করত না, কয়েক ঘন্টাতেই তাঁরা এখন হাতের লক্ষ্মী। শুধু স্টেবিলিটিটা ফ্যাক্টর। এটাই হয়ত পরিবর্তন। পাশা বদল যেমন ভাবে হয়, বিয়ের বাজারে তেমন হয়েছে চাহিদা বদল।