নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘বাবা আর নেই’, মায়ের কান্নামাখা গলায় এই ফোন পেয়েছিল মেয়ে। ভেবেছিল বাবার অসুস্থতার জন্যই হয়েছে এই মৃত্যু। কিন্তু বাড়িতে পা রাখতেই মেয়ে দেখল অন্য ছবি। ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে বাবার গলা কাটা দেহ। আর ধারালো অস্ত্রের পাশে বসে আছেন মা। এমনই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাতে এই ঘটনার পর শনিবার সকালে স্ত্রী কাঁকসা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণও করেন। পুলিশের দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। কাঁকসা রাজবাঁধের ক্যানাল পারের ঘটনা। নিহতের নাম চুনা কোড়া (৫০)। স্থানীয় সূত্রে খবর, চুনা কোড়া ও তাঁর স্ত্রী আম্বু কোড়ারের দুই মেয়ে, এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে থাকেন তাঁরা। ছেলে বাইরে কাজ করেন। স্বামী, স্ত্রী থাকতেন বাড়িতে। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁদের দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। শুক্রবার রাতে সেই অশান্তি চরমে ওঠে। রাত আড়াইটে নাগাদ স্বামীকে কুপিয়ে মারেন। শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই মেয়েকে খবর দেন। তার পর ছুটে যান কাঁকসা থানায়। স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে আত্মসমর্পণ করেন। এর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
চুনা কোড়ারের মেয়ে জানান, শনিবার সকালে তাঁকে ফোন করেন মা। জানান, বাবা মারা গিয়েছে। মেয়ের বক্তব্য, বাবার শরীর ভালো নয়। ভেবেছিলেন, তা থেকেই কিছু হয়েছে। এর পর বাড়িতে এসে দেখেন, সাংঘাতিক এই দৃশ্য। ঘরের ভিতর পড়ে আছে চুনা কোড়ারের রক্তাক্ত দেহ।
কাঁকসা থানার এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল বলেন, ‘রাত আড়াইটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। ওনার স্ত্রী ওনাকে হাঁসুয়ার কোপ মারে। স্ত্রী আমাদের কাছে সবটা স্বীকারও করেছেন। গ্রামের লোকের কাছেও জানিয়েছেন। পারিবারিক বিবাদের কারণেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পারছি। তদন্ত এগোলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।’