পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: আগামী সপ্তাহেই বসন্ত পঞ্চমী। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যা-বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পুজো হবে। তবে জানেন কী ? যেখানে ভারতজুড়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর অসংখ্য মন্দির ছড়িয়ে সেখানে বাগদেবীর মন্দির খুঁজতে গেলে আতস কাঁচ লাগে। অথচ জেনে অবাক হবেন, এই বাংলার বুকেই রয়েছে বাগদেবীর এক সুপ্রাচীন মন্দির। হ্যাঁ, বছরে শুধু একদিন নয়, ৩৬৫ দিনই এই মন্দিরে পূজিতা হন দেবী সরস্বতী।
ওই দুর্লভ মন্দিরটি রয়েছে হাওড়ার পঞ্চাননতলায়। ১ নম্বর উমেশচন্দ্র দাস লেনে। পরিবারের সদস্য অমলেন্দু দাস জানিয়েছেন, তাঁর পিতামহ রণেশচন্দ্র দাস পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কর্মসূত্রে রাজস্থানে থাকতেন। সেই সময় জয়পুর থেকে তিনি শ্বেতপাথরের তৈরি চার ফুটের এই দেবীমূর্তি এনেছিলেন। এর পর তার বাবা উমেশচন্দ্রের ইচ্ছাতে ১৯২৩ সালে হাওড়ার এই বাড়িতে মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের স্নানযাত্রার দিনে, জুন মাসে দেবী সরস্বতীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলত মা সরস্বতীর অপার আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছিল এই পরিবারের উপর। দেবীর আশীর্বাদে এই পরিবার শিক্ষার শীর্ষে পৌঁছেছিল। রণেশচন্দ্রের ভাই সুরেশ ছিলেন ডাক্তার। তার সূত্রেই এই মন্দিরে পদার্পণ ঘটেছিল স্বয়ং বিধানচন্দ্র রায়ের।
এই গৃহমন্দিরের গর্ভগৃহে শ্বেতপাথরের বেদিতে দেবী মূর্তির পাশেই ছোট এক সিংহাসনে রয়েছে শালগ্রাম শিলা। গর্ভগৃহের মাথায় আছে গম্বুজাকৃতির চূড়াঘর। শীর্ষে পদ্মের ওপর রয়েছে কলস আর এিশূল। খিলানের মাথায় চারকোণে চারটি হাঁস রয়েছে। খিলানগুলো দেবীর বীণা, পদ্ম প্রভৃতি দিয়ে অলংকৃত। জানা গেছে, এই শতবর্ষাধিক প্রাচীন মন্দিরে ১০৮টি মাটির খুরিতে বাতাসা আর ফল দিয়ে দেবী সরস্বতীর নিত্যপুজো হয়। মূর্তি প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় থেকে এই রীতি চলে আসছে। সারা বছর নিত্য পুজোর পাশাপাশি বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পুজোর দিন আর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা জগন্নাথের স্নানযাত্রার দিন আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো। সেই সময় বাসন্তী রঙের শাড়িতে নতুন করে সাজানো হয় দাসবাড়ির বাগদেবীকে। পাশাপাশি, সেজে ওঠে গোটা মন্দির। এই সময় আশে পাশের এলাকা থেকে অগণিত ভক্তের ভিড় হয় এই মন্দিরে।
আরও জানা গিয়েছে এই মন্দিরে বৈশাখ মাসে প্রতিদিন বাগদেবীর তিন বেলা নিত্য সেবা করা হয়। অমলেন্দু দাসের দাবি অনুযায়ী, বাংলায় এরকম ঐতিহ্যবাহী নিত্য সেবারত দেবী সরস্বতীর মন্দির বোধহয় আর কোথাও নেই। পারিবারিক প্রচেষ্টার এই ঐতিহ্যবাহী ধারা আজও এখানে বহমান।