নিজস্ব প্রতিনিধি,কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরে প্রকাশ্য দিবালোকে শুট আউট।দিনে দুপুরে ছাত্রীকে খুন । নিহত ছাত্রীর মা কুসুম মল্লিক(Kusum Mallick) প্রতিদিনের মতো সোমবার দুপুর ১২ টা নাগাদ ছেলেকে স্কুল বাস থেকে আনতে গিয়েছিলেন। যাবার সময় ফ্ল্যাটের দরজা এমনি বন্ধ করে ও ফ্ল্যাটের নিচের সদর দরজা তালা না দিয়ে গিয়েছিলেন। ছেলেকে নিয়ে ফিরে ফ্ল্যাটে যখন ঢুকতে যান তখন দেখতে পান একজন যুবক বের হচ্ছে।। তিনি চিৎকার করে উঠলে ওই যুবক কথা আছে বলেন। ছাত্রীর মা তাকে ফ্ল্যাট থেকে বেরোতে বলে চিৎকার করলে সে গুলি ছোড়ে। ছাত্রীর মা তার নিজের ছেলেকে নিয়ে ফ্ল্যাটের মধ্যে ঢুকে দরজা আটকে দেন। ওই যুবক অনেকক্ষণ ফ্ল্যাটের দরজা ধাক্কাধাক্কি করে চলে যায়। পরে ছাত্রীর মা ভেতরের ঘরে ঢুকে দেখেন তার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে।
তিনি এদিন যখন তার ছেলেকে আনতে যাচ্ছিলেন সেই সময় তার মেয়ে বাথরুমে ছিলেন। জানা গিয়েছে নিহত ছাত্রী অনলাইনে ভিক্টোরিয়া কলেজে(Victoria College) ভর্তির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সোমবার বাবার সঙ্গে তার কলেজে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবার কাছ থাকায় অন্য দিন যাবে বলে ঠিক হয়। নিহত ছাত্রীর বাবা ব্যাংকের কর্মচারী। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে,দুষ্কৃতীর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া সংলগ্ন ব্যারাকপুরে। তার নাম দেশরাজ সিং। তাকে পুলিশ পরে আটক করেছে।ওই ছাত্রীর মাথায় গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। দুষ্কৃতীরা একাধিক জন ছিল বলে পুলিশ মনে করছে।জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকিং শুরু হয়। দুষ্কৃতিকে ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। কেন ওই ছাত্রীকে খুন করা হল তার কারণ খুঁজছে পুলিশ।কৃষ্ণনগরে মানিকপাড়া এলাকার ঘটনা।নিহত ওই ছাত্রীর নাম ঈশিতা মল্লিক(Ichita Mallick)।
এক যুবক এসে বাড়িতে ঢুকে ছাত্রীকে গুলি ছুঁড়ে খুন করে কিভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাড়ির দোতলায় উঠে ওই ছাত্রীকে খুন করে যুবক।ওই ছাত্রীর সঙ্গে যুবকের পরিচয় ছিল। প্রেম – প্রণয় ঘটিত কারণে এই খুন কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।বাড়িতে দোতলায় উঠে ওই যুবক যখন খুন করে তখন বাড়িতে কেউ ছিল না।কাঁচরাপাড়ার যে যুবক গুলি ছুঁড়ে খুন করেছে তার নাম দেশরাজ সিং।সূত্র মারফত অনুযায়ী জানা যায়, মেয়েটি কাঁচরাপাড়া(Kacharapara) এলাকায় দীর্ঘদিন আগে পড়াশোনা করতেন এবং তারপর পড়াশোনা শেষ করে কৃষ্ণনগরে চলে আসে। সোমবার দুপুর বেলা এলাকা সূত্রে জানা যায়, কাঁচরাপাড়ার এক যুবক এসে বাড়িতে ঢুকে গুলি চালায়। গোটা ঘটনার তদন্ত নেমেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।মৃত কিশোরীর দাদু জানিয়েছেন, ওই যুবকের বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগণার কাঁচরাপাড়ায়৷ মৃত ছাত্রীর সঙ্গে যুবকের পূর্ব পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷ যদিও নিহত ছাত্রীর মাদানী করেছেন তারা কেউ ওই যুবককে চেনেন না। আততায়ী যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালায় পুলিশ ৷ পরে ধরা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ছাত্রী কৃষ্ণনগরে আসার আগে কাঁচরাপাড়াতেই থাকত৷ ফলে ওই যুবক ছাত্রীর পূর্ব পরিচিত বলেই সন্দেহ পুলিশের৷ সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ আততায়ী যুবককে ধরতে আশেপাশের থানাগুলিকেও সতর্ক করে পুলিশ৷ শুরু হয় নাকা তল্লাশিও ৷ শেষমেশ প্রেমিককে আটক করে পুলিশ। নিহত ছাত্রীর মায়ের একটাই দাবি তার কোল যেমন খালি হয়েছে তেমনি যেন ওই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই যুবকের মায়ের কোলো যেন খালি হয়। তবে কেন তার মেজ মেয়েকে খুন হতে হল তা পুলিশ তদন্ত করুক বলে দাবি জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, নিহত ছাত্রীরা তিন বোন এক ভাই। সে ছিল মেজ মেয়ে।