নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই প্রসূতির মৃত্যু। এমন ঘটনায় তোলপাড় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। অভিযোগ উঠেছিল নিম্মমানের স্যালাইনের। এই আবহে এবার রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে কড়া নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দফতর । বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ হয়েছে, অভিযোগ ওঠায় সুরক্ষার কারণে রোগীদের জন্য ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ স্যালাইন সাময়িক নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা অনিরুদ্ধ নিয়োগী জানিয়েছেন, রিঙ্গার ল্যাকটেট-সহ মোট ১০ ধরনের ওষুধ ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেইসকল ওষুধগুলি হল- রিঙ্গার ল্যাকটেট-৫০০ এমএল, রিঙ্গার সলিউশন আইপি ইনজেকশন-৫০০ এমএল, ডেক্সট্রোস ইনজেকশন ১০% ৬৫০ এমওএসএম/এল-৫০০ এমএল, ম্যানিটল ইনফিউশন আইপি ২০%-১০০ এমএল, প্যারাসিটামল ইনফিউশন-১০০০ মিলিগ্রাম/১০০ এমএল, অফলোক্সাসিন-২০০ মিলিগ্রাম/১০০ এমএল, লেভোফ্লোক্সাসিন-১০০ এমএল, ১/২ ডিএনএস-৫০০ এমএল, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইরিগেশন সলিউশন-৩ লিটার, পেডিয়াট্রিক মেনটেনান্স ইলেক্ট্রোলাইট সলিউশন-৫০০ এমএল। সেইসঙ্গে ওই সংস্থার তৈরি স্যালাইন সরকারি গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠান হয়েছে। রিপোর্ট সামনে না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ স্যালাইন ।
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি সাতসকালে মৃত্যু হয় এক প্রসূতির। এই ঘটনার জেরেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। অভিযোগ ওঠে, ভুল স্যালাইন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে । এরপরেই তড়িঘড়ি তদন্ত কমিটি গড়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আর তাতেই রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে নিষিদ্ধ হল নির্দিষ্ট সংস্থার তৈরি স্যালাইন।