নিজস্ব প্রতিনিধি: দলকে না জানিয়ে কালীগঞ্জের নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে গিয়েছিলেন ডেবরার বিধায়ক প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর। যদিও তার দেওয়া টাকা প্রত্যাখান করেছেন নিহত শিশুর মা। দলকে না জানিয়ে আগ বাড়িয়ে ডেবরার বিধায়কের ওই ‘আপনি মোড়লগিরি’তে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। সিপিএম-বিজেপি ওই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধতে শুরু করেছে। দলকে এভাবে অস্বস্তিতে ফেলায় ডেবরার বিধায়ককে শোকজ করল তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। কেন তিনি আগ বাড়িয়ে ওই কাজ করতে গেলেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের শোকজ নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি এককালের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক।
গত ২৩ জুন ছিল কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ভোটগণনা। তৃণমূলের সবুজ ঝড়ের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী জামানত বাঁচাতে পারলেও বাম সমর্থনেও জামানত রক্ষা করতে পারেননি কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ। ফলাফল প্রকাশের পরেই বিজয় মিছিল বের করেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ ওই বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমার আঘাতে প্রাণ হারায় চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া তামান্না। ঘটনার কথা জানতে পেরেই পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নির্দেশের পরেই কোমর কষে ঝাঁপায় পুলিশ। বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুরু থেকেই রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশকে নিশানা করে নানা মন্তব্য করে চলেছেন তামান্নার মা ও বাবা। সিপিএম ও বিজেপির তরফে তামান্নার মায়ের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রচার। তামান্নার মা যখন তৃণমূলকে আক্রমণ করে লাগাতার বক্তব্য দিয়ে চলেছেন ঠিক তখনই বুধবার নিহত শিশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর মাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাবিনা বিবি সেই অর্থসাহায্য প্রত্যাখ্যান করেন। নিমিষেই সাবিনা বিবিকে বীরাঙ্গনা হিসাবে তুলে ধরে তৃণমূলকে বিঁধতে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি ও সিপিএমের প্রচার বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী দলের অনুমতি ছাড়া আগ বাড়িয়ে কালীগঞ্জে নিহত শিশুর বাড়িতে যাওয়ায় ডেবরার বিধায়ককে শোকজ করেছেন। ওই শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ‘নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচন উপলক্ষে একটি নিদারুণ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দুঃখজনক ঘটনায় পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বিশেষভাবে অবহিত আছেন এবং প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এই ব্যাপারে গত ২৫ জুন দলের অনুমতি ছাড়াই আপনার অযাচিত হস্তক্ষেপ আমাদের দলের ভাবমূর্তিকে যারপরনাই আঘাত করেছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের এই আচরণের জন্য আপনাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’