নিজস্ব প্রতিনিধি: সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, এ কথা কে না জানে। কেননা নারীই পারে সংসারের জন্য, সন্তানের জন্য, স্বামীর জন্য নিজের স্বপ্ন, নিজের সুখ, নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে হাসিমুখে সংসারের হাল ধরে রাখতে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বান্ধবী হয়েও, রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বিধায়ক সাধন পাণ্ডের(Sadhan Pande) স্ত্রী হয়েও সুপ্তি পাণ্ডে নিজেকে চার দেওয়ালের মধ্যেই বেশি আবদ্ধ রেখেছিলেন। মমতার নানা আন্দোলনে তাঁকে দেখা গেলেও কোনওদিনই ভোট রাজনীতির যুদ্ধে অবতীর্ণ হননি তিনি। হলেন স্বামীর অবর্তমানে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র মানিকতলা ধরে রাখার জন্য। আর ধরেও রাখলেন। এদিন সামনে এসেছে রাজ্যের ৪ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল। আর তাতেও জানা যাচ্ছে, কলকাতার(Kolkata) মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে(Maniktala Assembly Seat Bye Election) তৃণমূলের(TMC) প্রার্থী হিসাবে সাধনের সহধর্মিনী সুপ্তি পাণ্ডে(Supti Pande) জিতেছেন ৬২ হাজারের বেশি ভোটে। হারিয়েছেন পদবি বদলে ভোটের যুদ্ধে নামা বিজেপির কল্যাণ ভট্টাচার্য চৌবেকে। বেচারা পদবি বদলেও ভোটে জিততে পারল না।
এদিন মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে যায় তৃণমূল। এরপর সময় যতই এগিয়েছে, তৃণমূলের লিডের পরিমাণ ততই বেড়েছে। সেই লিডের বহর দেখেই তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ গণনার প্রথম দিকে ট্যুইট করেন যে, ‘মানিকতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে @AITCofficial প্রার্থী সুপ্তি পান্ডেকে রেকর্ড জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মানুষকে অভিনন্দন। দলের প্রচার ও কর্মপদ্ধতিতে সাড়া দিয়েছেন মানুষ। কর্মী, সমর্থকদের পরিশ্রম সার্থক। @MamataOfficial জিন্দাবাদ। @abhishekaitc জিন্দাবাদ। সাধনদাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।’ আর ভোটের ফল সম্পূর্ণ ভাবে ঘোষিত হতেই তিনি কল্যাণকে খোঁচা দিয়ে জানালেন, ‘কল্যাণ চৌবে যত ভোটে হারবেন, ততগুলি রসগোল্লা ওর বাড়িতে পাঠাব। বাম জমানার থেকে ভাল আছেন বাংলার মানুষ। বিজেপির প্রতি তাঁদের আস্থা নেই। ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করছে। তাই মানুষের আস্থা রয়েছে।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রয়াত হন মানিকতলার দীর্ঘদিনের বিধায়ক সাধন পাণ্ডে। তিনি জীবিত থাকাকালীনই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলার গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। সেই মামলার কারণেই সাধনবাবু প্রয়াত হলেও দীর্ঘদিন উপনির্বাচন হয়নি ওই আসনে। অবশেষে গত ১০ জুলাই হয় উপনির্বাচন। আর এদিন ছিল সেই উপনির্বাচনের ভোটগণনা। সাধন পাণ্ডের গড় তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে তৃণমূলের দখলেই থাকায় খুশি দল। আবির খেলায় মেতেছেন কর্মীরা। মায়ের জয়ে খুশি সাধন কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডেও(Shrreya Pande)। এবারের উপনির্বাচনের জন্য যেদিন তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করেছিল সেই দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই নির্বাচনের সঙ্গে কোনও ভাবেই যেন শ্রেয়াকে যুক্ত করা না হয়। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন সুপ্তি ও শ্রেয়া। কিন্তু মায়ের জয়ের পরে এদিন স্বস্তি আর খুশির হাসি হেসেছেন শ্রেয়া।