নিজস্ব প্রতিনিধি: চিটফান্ড কাণ্ডে(Chit Fund Issue) প্রতারিতদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার(West Bengal Government)। ইতিমধ্যেই সরকারি তৎপরতার কারণে বহু মানুষ নিজেদের চিটফান্ডে বিনিয়োগ বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পেতে সক্ষম হয়েছেন। সারদা-সহ অন্যান্য চিটফান্ড সংস্থার কারণে যাঁরা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের তরফে। সেই কমিটির মাথায় ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদার। চিটফান্ড সংস্থাগুলির সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে তালুকদার কমিটি। তবে সেই কমিটির কাজের খরচ জোগাবে রাজ্য সরকার।
এরপর তালুকদার কমিটি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির সম্পত্তির মাধ্যমে টাকা ফেরানোর কাজ জারি রেখেছে। ইতিমধ্যেই প্রতারিতদের অনেকে টাকা ফেরত পেয়ে গিয়েছেন। তবে কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এরইমধ্যে বিচারপতি এসপি তালুকদার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তালুকদার কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। তাঁকে সরিয়ে চিটফান্ড কমিটির নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে চিটফান্ড কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেবেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চিটফান্ডের রমরমা বাজারে বাংলার বহু মানুষ অধিক অর্থ লাভের আশায় এই সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এই চিটফান্ড সংস্থাগুলি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়। নিজেদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। এরপর আমানতকারীদের তরফ থেকে ২০১৮ সালে রাজভবন অভিযান করা হয়েছিল। এরপর মূলত রাজ্য সরকার এবং তালুকদার কমিটির যৌথ উদ্যোগে বহু মানুষ নিজেদের বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পেয়েছেন। আগামীতেও বঞ্চিতদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।