নিজস্ব প্রতিনিধি: শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দোষী সুরেশ পাসোয়ানের মৃত্যুদণ্ডর সাজা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট(Kolkata HighCourt)। হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মোঃ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ অভিযুক্তের বয়স এবং মামলার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৃত্যুর সাজার(Death Sentence) বদলে দোষী ব্যক্তিকে আজীবন কারাদণ্ডে রাখার নির্দেশ দেন। গ্রেফতারের দিন থেকে পরবর্তী ৫০বছর পর্যন্ত ওই দোষী ব্যক্তি জেলে থাকবেন। একই সঙ্গে পকসো আইনে নিম্ন আদালত(Lower Court) যে রায় দিয়েছে তা বহাল রাখে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। দোষী ব্যক্তির বয়স ৪৫ বছর। তার পরিবার অত্যন্ত গরিব। বিয়ে করেছিলেন ।পরে স্ত্রী ছেড়ে চলে যায় ।
কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় ঘোড়ার আস্তাবলে থাকতেন দোষী সুরেশ। দোষী ব্যক্তি অপরাধ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এবং মৃতের পরিবারের উপরে শত্রুতা বা প্রতিহিংসার বশে করেছে সে কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। ২ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন, অনেক মামলায় সুপ্রিমকোর্ট বলে প্রতিটি হত্যাই ভয়াবহ কিন্তু সব ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য নয় এই মামলা তো এমন কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারা যায়নি যে এটি সবচেয়ে বিরলতম খুনের বা অপরাধের ঘটনা। যার কারণে মৃত্যুদণ্ড সাজা দিতেই হবে। হেস্টিংস এলাকায় উড়ালপুলের নিচে বসবাসকারী এক পরিবারের আড়াই বছরের শিশু কন্যাকে ২০১৩সালের একুশে জুলাই রাতে দোষী ব্যক্তি অপহরণ করে এবং পরের দিন তার দেহ পাওয়া যায় পাশের একটি নালায়।
ওই শিশুর শরীরে ধর্ষণ ও নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তদন্তের নেমে সুরেশকে(SuresH) গ্রেফতার করেছিল। জানা গিয়েছিল রয়েল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করত সুরেশ। সেই ওই শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ(Rape) করার পর খুন করেছিল। সেই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মেডিকেল রিপোর্ট ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং যে জায়গা থেকে শিশুটির পোশাক উদ্ধার হয়েছিল তার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন নিম্ন আদালত তাকে মৃত্যুর সাজা দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই সাজা খারিজ করে দিয়ে তাকে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।