নিজস্ব প্রতিবেদন: কয়েক মাস আগেই আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-হত্যা নিয়ে নিয়ে প্রবল আন্দোলনে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের সঙ্গ দিয়েছিলেন বাম-বিজেপি-সহ তৃণমূল বিরোধীরা। খানিকটা হলেও বিব্রত হয়েছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে ব্যর্থতা ঢাকতে দলের চিকিৎসক সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক তথা রাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী শশী পাঁজাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আগেই গঠন করা হয়েছিল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’। আজ বৃহস্পতিবার ঘোষিত হল সংগঠনের কমিটি। মূলত নতুনদের এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এমনদেরকেই কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
আরজিকর কাণ্ডের সময় শাসক দলের অন্দরেই গুঞ্জন উঠেছিল যে তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’ (পিডিএ) নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভচিন্তকদের অনেকেরই বক্তব্য ছিল ‘প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর চিকিৎসক নেতারা সঠিক ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হত না।’ এটা একশো শতাংশ সত্যি যে আরজি কর আন্দোলনের সময় বামপন্থী সংগঠন ‘জয়েন্ট ডক্টর্স ফোরাম’ যে ভাবে দাপট দেখিয়েছিল, তার মোকাবিলা করতে পারেননি তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনের তৎকালীন নেতারা। তার পরেই নতুন সংগঠন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। পরিচিত নেতাদের সরিয়ে নতুন ‘প্রোগ্রেসিভ হেল্থ অ্যাসোসিয়েশন’ (পিএইচএ)-এর নেতৃত্বে আনা হয় শশীকে। এর অধীনে গড়ে ওঠে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনও।
বৃহস্পতিবার এই সংগঠনের কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সচিব-সহ একাধিক পদে চিকিৎসক নেতাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য পেয়েছে নতুন মুখ। তৃণমূল সূত্রে খবর, পরবর্তী সময়ে এই কমিটি থেকেই জেলা কমিটি তৈরি করা হবে। আলাদা কমিটি তৈরি হবে মেডিক্যাল কলেজগুলির জন্যেও। কিছুদিন আগে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেছিলেন, ইন্টার্ন, হাউজ স্টাফ, চারটি বর্ষেরই জুনিয়র চিকিৎসক, জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট (চুক্তিবদ্ধ) যেন ডব্লিউবিজেডিএ-তে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করান। জুনিয়র চিকিৎসকেরা ওই সংগঠনে নথিভুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে দায়িত্ব বণ্টনে সুবিধা হবে।