নিজস্ব প্রতিনিধিঃ– বাংলা জুড়ে ক্রমশ ভয় ধরাছে জঙ্গিদের আনাগোনা। লাগাতার বাংলাদেশি জঙ্গিদের প্রবেশ রুখতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে চলছে ধরপাকড়ও। এবার এই পরিস্থিতি উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ব্যস্ত রাস্তার দুই প্রান্তে জঙ্গি সতীর্থদের ছিনিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি)।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেলবন্দি সাজিদ ওরফে মাসুম মিঞা, আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে ইনাম সহ চার জঙ্গিকে বাইরে নিয়ে এসে সংগঠনকে মজবুত করতে চাইছিল এবিটি। এদের কেউ প্রেসিডেন্সি, আবার কেউ দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছে। তাই এই দুই জেল এবং সংশ্লিষ্ট আদালত চত্বরের আশপাশের রাস্তা রেকি শুরু করে এবিটি। যাতে আদালতে যাতায়াতের পথে প্রিজন ভ্যান থেকে এহেন সতীর্থদের ছিনিয়ে নেওয়া যায়। ইউনাইটেড জেহাদ কাউন্সিলের অন্যতম মাথা সালাউদ্দিন সালেহান এবং এবিটি প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানির নির্দেশমতোই এই ছক সাজিয়ে ছিল মহম্মদ শাদ রবি ওরফে সাহেব। শাদের মোবাইলের গ্রুপ ঘেঁটে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
শাদের মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ময়মনসিংহের কায়দাতেই চার জঙ্গিকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল এবিটি। ‘বস’ সালাউদ্দিনের এই নির্দেশ পৌঁছে যায় জসিমউদ্দিনের কাছে। তদন্তে উঠে আসছে, শাদ সক্রিয় করে তোলে তার পিসতুতো ভাই সাজিবুলকে। আদালতে যাতায়াতের সময় প্রিজন ভ্যানে কতজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকে, কোন ধরনের গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, তার তথ্য জোগাড় চলছিল। এমনকী অসুস্থ হলে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সে খোঁজও নিচ্ছিল সাজিবুল। বেঙ্গল এসটিএফ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ত্রিশালায় পুলিসের গাড়িতে হামলা চালিয়ে সাজিদ ছিনিয়ে নিয়ে যায় সালাউদ্দিন সালেহান, বোমা মিজান ও রাকিব হাসানকে। এর মধ্যে পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে রাকিবের মৃত্যু হয়। সালাউদ্দিন ভারত ও বাংলাদেশের খাতায় এখনও মোস্ট ওয়ান্টেড। ২০১৪’র অক্টোবর মাসে খাগড়াগড় কাণ্ডে সে সময়ে জেএমবির বড় মাথা সাজিদ ধরা পড়ে। গ্রেফতার করা হয় জেএমবির ‘ফিনান্স এক্সিকিউটিভ’ বাংলাদেশি নাগরিক আনোয়ার হোসেন ফারুক, কওসার সহ অনেকেই। এবার এই সঙ্গীদের বাইরে বার করে আনতেই রেকি চালাছিল বলেই গোয়েন্দাদের দাবি।