নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরে রুফ টপ নিয়ে আদালতের উপরে ছেড়ে দিলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সোমবার কলকাতা পুরসভায় কলকাতা পুলিশ, সেচ দফতর, সিইএসসি, পোর্ট ট্রাস্ট, পূর্ত, সহ একাধিক দফতরকে নিয়ে বৈঠক করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম(Mayor Firhad Hakim)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুর কমিশনার ,ডি জি সহ বোরো চেয়ারম্যান ও মেয়র পারিষদ সদস্যরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, স্টে অর্ডার কেন বলছেন। মহামান্য আদালত বলেছেন সমস্ত নথি নিয়ে পরশুদিন আসতে । তার অভিযোগ যে ভাবে চারদিকে শহরে রুফ টপ গজিয়ে উঠেছে তাতে সাবধানতা অবলম্বন করার প্রয়োজন। যেমন পার্ক স্ট্রীটের অনেক রুফ টপ আছে। তিনি বলেন, আমি নিজেই এলএমএনকিউ রেস্তোঁরাতে গিয়েছিলাম। আমরা পক্ষ থেকে শুধু তাদের বেআইনি অংশ টুকু ভাঙ্গা হয়েছে। যেখনে হাইড্রোলিক ল্যাডার যেতে পারে সেই জায়গা ক্লিয়ার করে বাকি অংশ সেই ভাবেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র। এদিন হুয়াটসঅ্যাপ ক্যাফে সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন যে, এই রুফ টপ সম্পূর্ণ বেআইনি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তারা হাই কোর্টে টিকে গেছে।
কিছু ঘটে গেলে প্রাণহানি হলে আমরা তো আর আদালতের উপরে দায়িত্ব দিতে পারি না বলে কটাক্ষ সুরে বলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তার পরিষ্কার বক্তব্য নাগরিকদের দায়বদ্ধতার নিতেই হবে। শুধু ব্যবসা করব আর মানুষের প্রাণহানি হবে সেটা হতে পারে না। তিনি বলেন যে, আমাদের ও নোটিশ দেওয়া পছন্দ নয়। কিন্তু যখন কোনো উপায় থাকে না তখন বাধ্য হয়ে এইসব করতে হয় বলে জানান তিনি। এদিন তিনি দমকল দফতরের কাছে একই ভাবে শহরের সমস্ত গেস্ট হাউজ ও বাজারের ফায়ার অডিট করার অনুরোধ জানান মেয়র। তিনি বলেন আমরা চাই না যে মানুষের প্রাণের ক্ষতি হয়। আগে মানুষের জীবন তার পরে ব্যবসা বলে জানান তিনি। তিনি এদিন স্টিফেন কোর্টের প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে বলেন যে ওই ঘটনায় ছাদ বন্ধ থাকার জন্য অনেক মানুষ সিঁড়ি তে দাড়িয়ে দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়ে ছিলেন। একই ভাবে ঋতুরাজ হোটেল কি হয়েছিল। যারা গেস্ট হোটেলে ছিলেন তাদের কে ঘরের মধ্যে নক না করেই নিজেদের প্রাণ রক্ষার জন্য সেখানকার হোটেলের স্টাফরা ছাদে উঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু যারা দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে ছিলেন তাদের কে নক কর হয়নি বলে অভিযোগ করেন মেয়র। এদিন রুফ টপ নিয়ে বলেন যে আমি জানি না কারা অনুমতি নিয়েছিলেন কি নিলেন না। আমি শুধু এটাই জানি যে রুফ টপ কমন হওয়া উচিত। আর কমন জায়গায় বিক্রি করা যায় কি না এটা আইনি বিষয়।
আমি আমাদের আইনি বিভাগকে এই বিষয়ে খুঁটিয়ে দেখতে বলেছি।রফ টপ সবার জন্য এটা আটকে রাখা যায় না বলে নিজের আগের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আমি সাউথ সিটি রুফ টপের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা বলছে যদি রুফ টপ(Roof Top) খুলে রাখলাম। আর যদি কেউ ঝাঁপ দিয়ে দেয়। তাহলে কি হবে। আমি তখন তাদের কে বলেছিলাম যে ছাদে চারপাশে জাল দিয়ে দিতে। যাতে কেউ ঝাঁপ দিলেও প্রাণ হানি না হয়। এদিন তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবন রক্ষার অধিকার থাকা উচিত। যাতে যদি কোনো বহুতলে আগুন লাগলে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছাদে যেতে পারে। এদিন তিনি হতাশা বেক্ট করে বলেন যে আমি তো কেউ নেই। আমি চেয়ে ছিলাম একজন বাবা হিসাবে যাতে হুক্কা বার বন্ধ হোক। কিন্তু মহামান্য আদালত চাইল না। তাই হুক্কাবার বন্ধ হয়নি। আমার নোটিশের বিরুদ্ধে তারা আদালতে গিয়েছেন। এবার আদালত ঠিক করবে মানুষের জীবন বাঁচবে কি না বলে আদালতের কোর্টে বল দিয়ে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এদিন গুলশান কলোনি নিয়ে ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ।তার দাবি যারা পৌর সভার কর্মী দের হাতে গায়ে হাত দিয়েছে। আসলে তারা মার গায়ে হাত দিয়েছে। এটা একেবারে অন্যায় ।যারাই করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে ও মন্তব্য করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন ,পুলিশ কে বলব দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি গ্রহণ করা হোক। তবে এদিন পুলিশের একাংশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন কিছু পুলিশ অপদার্থ রয়েছে।
তবে কাউন্সিলরের অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি এদিন বলেন যে, আমাদের উপরে কোনো চাপ নেই। পুলিশের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাদের কাজ। এদিন মুর্শিদাবাদের নিহত পরিবার কে নিয়ে রাজনীতি করার বিষয়ে নিয়ে তিনি বলেন যে এই গুলো সব রাজনীতি করছে। এই রাজনীতি করে বিজেপির কোনই লাভ হবে না বলে কটাক্ষ সুরে বলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। রুফ টপ নিয়ে আর একবার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি বলেন যে মহামান্য আদালত আমাদের উপরে আছে ।মানা করবে কি করবে না সেটা তাদের ব্যাপার বলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া এদিন বর্ষা মৌসুমে নিয়ে যৌথ বৈঠক নিয়ে তিনি জানান বৈঠকে সমস্ত খালের বর্তমানের পরিস্থিতি উপরে নজর রাখতে বলা হয়েছে। তবে বেশি ভাগই খাল ঠিকই আছে। সমস্ত খাল ডিসেলটিং হয়েছে। যেটা বাকি আছে সেটা সেচ দফতর আগামী বছর করবে বলে জানান মেয়র। এছাড়া তিনি জানান যে বৈঠকে শহরের ফ্লাইওভার(Flyover) কি অবস্থায় রয়েছে। সেই বিষয়ে ও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। এছাড়া পোর্ট ট্রাস্টের এলাকায় কি অবস্থা আছে। সি ই এস সি কে নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। কলকাতা পুর সভার সমস্ত পাম্পিং স্টেশনগুলি কে সক্রিয় রাখতে বলা হয়েছে। তবে এদিন আবার বড় দাবি করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, কলকাতায় ৫ ঘণ্টার বেশি কোথায় জল জমবে না বলে আশ্বাস মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। এছাড়া অনেক জায়গায় পাইপ লাইনের কাজ কাজ করছে কে ই আই পি। তাদের কে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছ। আর যে সব রাস্তা তারা এখনও করতে পারেনি সেই সমস্ত রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে কলকাতা পুর সভার পক্ষ থেকে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মেয়র। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংযোগ রাখতে বলা হয়েছে বলে ও জানান তিনি। তবে এদিন আবার পোর্ট ট্রাস্টের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন যে পোর্ট ট্রাস্টের এলাকায় কোনো দিন ডিসেল্টিং করা হয় না। তাদের কে বলেও কোনো লাভ হয় না বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মেয়র ফিরহাদ হাকিম।