নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার(Kolkata) আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের(R G Kar Medical College and Hospital) প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের(Sandip Ghosh) বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা Enforcement Directorate বা ED। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির নেপথ্যে পরোক্ষভাবে কলকাঠি নেড়েছেন খোদ সন্দীপ। এই মর্মে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তাঁকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসায়ী বিক্রম সিংহ এবং সুমন হাজরা ও দেহরক্ষী আশরাফ আলি খানকেও জেরা করেছেন ED আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন, পুজোর ভিড় ও আন্দোলন সামলে নায়ক কলকাতা পুলিশ
সন্দীপ সব বাকি ৩জনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময়েই সেখান থেকে সন্দীপের ঘনিষ্ঠ পরিজন সহ শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামে একাধিক সম্পত্তির দলিল(Property Deed Papers) উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সব সম্পত্তি কীভাবে এল সেটাই এখন খতিয়ে দেখতে চাইছেন ED আধিকারিকেরা। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁরা এই সব বিষয়ে সন্দীপের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাননি। ED’র আধিকারিকদের অনুমান সন্দীপের আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিষয়ক আর্থিক কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রয়েছেন সন্দীপই। আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে অবৈধ অর্থের উৎস খুঁজতে ইতিমধ্যেই লিখিত বয়ান নেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ৩ বছর আর জি করে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
আরও পড়ুন, সন্ন্যাসী পিটিয়ে দলের মুখ পোড়ালেন পদ্ম সাংসদ অনন্ত মহারাজ
এছাড়াও ইডি-র জোরালো দাবি, সন্দীপ ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বিক্রম, সুমন ও আশরাফদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির মূল কাণ্ডারি হিসেবে উঠে এসেছে এই কয়েকটি নাম। ইডি-র এক উচ্চপদস্থ কর্তা এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সন্দীপ সহ ৪ জনই সরাসরি জবাব এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করার জন্য প্রয়োজনে আরও জেরা করা হবে। ফলে এখনই আইনের জাঁতাকল থেকে নিষ্কৃতি মিলছে না আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষের।