নিজস্ব প্রতিনিধি: আশঙ্কাই সত্যি হল। তথাকথিত ছাত্র সমাজের ডাকা মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযান ঘিরে নারকীয় তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল কলকাতাবাসী। সাঁতরাগাছি থেকে হাওড়া ময়দান, হেস্টিংস থেকে মহাত্মা গান্ধি রোডে ছাত্র সমাজের আড়ালে দুষ্কৃতীদের বেনজির গুন্ডামি চলল। একাধিক পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী দুষ্কৃতীদের ছোড়া ইট, পাথর আর সোডার বোতলের আঘাতে রক্তাক্ত হলেন, গুরুতর চোট পেলেন। একের পর এক সতীর্থকে রক্তাক্ত হতে দেখেও মাথাঠাণ্ডা করে হিংসাশ্রয়ী আন্দোলন সামাল দিলেন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা। আর পুলিশ যেভাবে সংযমের পরিচয় দিয়েছেন তাতে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধৈর্য্য দেখানোর জন্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরাও যেভাবে অধস্তন আধিকারিক ও কর্মীদের সামাল দিয়েছেন তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এদিন সকালেই নবান্নে চলে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয়ের ১৪ তলায় নিজের ঘরে প্রথমে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। আন্দোলনকারীরা প্ররোচিত করলেও পুলিশ যাতে মাথা ঠাণ্ডা করে আন্দোলোন সামাল দেয়, সেই পরামর্শ দেন তিনি। দিনভর নবান্নে থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সইসাবুদ করার পাশাপাশি আন্দোলনের নামে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের দিকেও নজর রাখেন তিনি। দুপুরেই নবান্ন দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশের উপরে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) মনোজ ভার্মা ও এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার অভিযোগ করেন, ‘ছাত্র সমাজ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নামে নবান্ন অভিযানের নামে যে আন্দোলন সংগঠিত করা হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণ ছিল না। ধ্বংসাত্মক আন্দোলন চালিয়েছিল তথাকথিত আন্দোলনকারীরা। যারা পুলিশকে আক্রমণ করেছে, গুন্ডামি করেছে তারা ছাত্র হতে পারে না। কোনও ছাত্র পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে পারে না।’ নবান্ন অভিযানে সামিল দুষ্কৃতী আর গুন্ডাদের রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের দুই শীর্ষ আধিকারিক।