নিজস্ব প্রতিনিধি: ট্যাব কাণ্ডের পর থেকেই আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন শাখা। একের পর এক অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির জাল গুটিয়ে আনা হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারি প্রকল্পের বিপুল টাকা হাতানোর অভিযোগে এক সরকারি আধিকারিককে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার তরফ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম তপন কুমার ঘোষ। তিনি মালদহের হবিবপুরে শ্রম দফতরের আধিকারিক পদে নিযুক্ত ছিলেন। এখনও অন্য জেলায় একই দফতরের অফিসার পদে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা তছরূপের অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চলতে চলতে’ পর এবার ‘কহোনা প্যার..’, নেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলল ইন্দোনেশিয়ার দুই খুদে
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার সারাদিন ধরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। এরপরই সরকারি অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে তপন ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তাঁকে তোলা হয়। তাঁরা বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্য সরকারি আইনজীবী দীপঙ্কর কুণ্ডু আদালতে জানান, রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা যোজনার তহবিলের টাকা শ্রমিকদের হাতে তুলে না দিয়ে নিজে হাতিয়ে নেন ওই অভিযুক্ত আধিকারিক।
আরও পড়ুনঃ ১১১ নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিস্ফোরক অভিযোগ মিশরীয় ধনকুবের ফায়েদের বিরুদ্ধে
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯-এর মধ্যে শ্রম দপ্তরের ওই ইন্সপেক্টর ভুয়ো চেক ইস্যু করে যোজনার টাকা প্রাপক শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়ার বদলে নিজে আত্মসাৎ করা শুরু করেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতেন তপন ঘোষ। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত তিনি। এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতাতে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন তিনি। এই আর্থিক তছরুপের পিছনে আরও ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। অভিযুক্তের আইনজীবী অবশ্য তাঁর জামিনের আবেদন করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অভিযুক্তকে সাত দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।