নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় বলে যেমন কর্ম তেমন ফল। গতকাল বুধবার মহাষষ্ঠীর দিন দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীর মণ্ডপে ঢুকে নাটকীয়ভাবে ‘বিচার চাই’ শ্লোগান দিয়ে আটক হয়েছিলেন নয়জন। আজ বৃহস্পতিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সরকারি ও আসামী পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বিচারক ধৃত ৯ জনকে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের তরফে অবশ্য ধৃতদের ১২ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল।
নিজেদের আবদার পূরণ না হওয়ায় উৎসবে সামিল না হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন স্বঘোষিত বিপ্লবী তথা জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু বাংলার মানুষ ঘৃণা ভরে সেই ডাক উপেক্ষা করে রাস্তায় বেরিয়েছে। আর রাজপথে মানুষের ঢল দেখেই ঘাবড়ে গিয়েছেন তথাকথিত বিপ্লবের ডাক দেওয়া অতি বিপ্লবীরা। তাই পুজোর সময়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে লিফলেট বিলির নয়া কর্মসূচি নিয়েছিলেন। আর এক্ষেত্রে রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের পুজোগুলিকেই নিশানা করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের পুজো হিসাবে পরিচিত ত্রিধারা সম্মিলনীর মণ্ডপের বাইরে গিয়েই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ শ্লোগান দেওয়া শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কট্টর বিরোধী তথাকথিত আন্দোলনকারীরা। পুলিশের পক্ষ থেকে ৯ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
এদিন আলিপুর আদালতে পেশ করা হয় ধৃত ৯ জনকে। সরকারি আইনজীবী জানান, রবীন্দ্র সরোবর এলাকার বাসিন্দা বিট্টু কুমার ঝার অভিযোগের ভিত্তিতে ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন আসানসোলের কুলটির সুজয় মণ্ডল, দমদমের উত্তরণ সাহা রায়, ট্যাংরার কুশল কর, নরেন্দ্রপুরের জহর সরকার এবং সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমানের নাদিম হাজারি, হাসনাবাদের ঋতব্রত মল্লিক, খড়দহের চন্দ্রচূড় চৌধুরী এবং রহড়ার দৃপ্তমান ঘোষ। ধৃতদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই স্পষ্ট পূর্বপরিকল্পিতভাবেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে গিয়ে ঝামেলা পাকানোর উদ্দেশ্য ছিল। জামিন পেলে অন্য মণ্ডপে গিয়ে একই ঘটনা ঘটাবে। তাতে বড় সড় অশান্তি বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। ধৃতদের আইনজীবী জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে তাতে সাড়া দেননি বিচারক। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে মহা সপ্তমীর সন্ধ্যায় ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ হয়ে মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছিল তথাকথিত অভয়া পরিক্রমার পাণ্ডারা। তবে সেই চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ ও কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।