নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত দুদিনের পর আজ রবিবারও সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি চলছে জলপাইগুড়িতে(jalpaiguri)। মেখলিগঞ্জ, জলঢাকা নদীর এন এস ৩১ অসংরক্ষিত এলাকায় রবিবার ও রয়েছে লাল সর্তকতা। জলঢাকায় সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সর্তকতার পাশাপাশি তিস্তার দোমহানী অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। ফুঁসছে তিস্তা, জলঢাকা, করলা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদীগুলো। করলা নদীর জলে প্লাবিত জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ড পরেশ মিত্র কলোনী সহ বেশ কিছু এলাকা। প্রায় ৩৫০ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় হলঘর ও ক্লাবগুলিতে।
অনেকে আবার শনিবার রাত কাটিয়েছেন খোলা ব্রিজের ওপর।রবিবার সকাল ৬ টায় জলপাইগুড়ির গোজলডোবা ব্যারেজ(Gajildoba Dam) থেকে ২২০৪.৫১ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তর ফ্লাড কন্ট্রোল সূত্রে জানা গেছে। সময় যত এগোচ্ছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িগুলি সহ চাষের জমি জলের তলায় ডুবে যাচ্ছে। এদিকে এই প্রবল দর্শনের দরুন বাঁধ মেরামতির কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। যদিও তার মধ্যেই সেচ দফতর যেখানেই বাঁধে ফাটল দেখা দিচ্ছে সেখানেই মেরামতির কাজ করছে। আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে উত্তরবঙ্গে(North Bengal) অতি দুর্যোগ চলবে। উপরের দিকের পাঁচটি জেলায় ভারী বর্ষণ হবে। ফলে সময় যত এগোচ্ছে একটানা বর্ষণে জলপাইগুড়ি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার দার্জিলিং ও কালিম্পং এলাকাতে মানুষজনকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে ত্রাণ শিবির গুলিতে।
করলা নদীর জলে প্লাবিত শহর,সেতুর ওপর বসছে বাজার।শনিবার রাত থেকেই অশনি সঙ্কেত দেখতে পেয়েছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র , দিনবাজারের ব্যবসায়ীরা।রাত থেকেই হোল সেল মাছ বাজার সহ অন্যান্য জায়গা জলে থৈ থৈ।রবিবার সপ্তাহের মূল ব্যাবসার দিন, আর এমন দিনেই কার্যত করলা নদীর জলে ডুবে রয়েছে বাজার।এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ্য ৬২ বছর ধরে এই বাজারে মাছ বিক্রেতা সর্বন শা বলেন, বছরে দু একদিন আমাদের এই ভোগান্তির শিকার হতে হয়, আজ মাছ বাজার নিজেই ডুবে রয়েছে।অপরদিকে মূল বাজার করলা নদীর জলে প্লাবিত, এদিকে রবিবার দিনেই সরগরম হয় মাছ বাজার, ভিড় থাকে ক্রেতাদের আর এই দিনেই যদি দোকান করা না যায় তাহলে কি করে চলবে , অগত্যা দিন বাজারের সংলগ্ন করলা নদীর সেতুর ওপরেই মাছ নিয়ে বসেছি, এমনটাই জানালেন অপর এক মাছ বিক্রেতা জয়দেব দেবনাথ।
রবিবার সকালে এক অদ্ভুত দৃশ্য জলপাইগুড়ি শহরে, যে নদীর জলে প্লাবিত ব্যাবসা সেই নদীর সেতুর ওপরেই মাছ থেকে সবজি নিয়ে চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।