নিজস্ব প্রতিনিধি, তুফানগঞ্জ : বাংলার একের পর এক বাসিন্দাদের এনআরসি নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ অসম সরকারের বিরুদ্ধে। কোচবিহারে এর আগেও তিনজনকে নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এবার ফের আরও একজনকে নোটিশ পাঠাল অসম সরকার। এবার নোটিশ এসেছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসরাজা গ্রামের বাসিন্দা মমিনা বিবির কাছে।
জানা গিয়েছে, বছর ৪০ আগে অসমের ধুবরি জেলার আগমনীর বাসিন্দা জহির মিঞাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মোমিনার। কিন্তু সেখানে বেশিদিন থাকেননি। ১ বছর থেকেই অসম থেকে বাড়ি চলে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বাঁশরাজা প্রথমখন্ড গ্রামের বাসিন্দা। সেই সময় স্বামীকে নিয়েই চলে এসেছিলেন তিনি। ওই স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বাঁশরাজাতে। সেই স্বামীো ছেড়ে চলে যান। বাড়িতে ২ ছেলে ও পুত্রবধূরা রয়েছেন। এবার তাঁকেই এনআরসি নোটিশ পাঠিয়েছে অসম সরকার।
মোমিনা বিবির অভিযোগ, এর আগেও তাঁকে আরও ২টি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এই নিয়ে ৩ বার নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাড়িতে পুলিশ এসে আদালতে হাজিরার নির্দেশও দিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। হাজিরা না দিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোচবিহারের মাথাভাঙার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে এনআরসি নোটিশ দেওয়ার খবর সামনে আসার পর থেকে একের পর এক নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কোচবিহারের মাথাভাঙার বাসিন্দা উত্তরমকুমার ব্রজবাসী, নিশিকান্ত দাস, আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বাসিন্দা অঞ্জলি শীলের পর মোমিনা বিবিকে নোটিশ পাঠানোর খবর সামনে এসেছে।
এই এনআরসি নোটিশ পাঠানো নিয়ে অসম সরকারকে আগেই কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ২১-র সমাবেশ সবজায়গাতেই অসম সরকারকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, দীর্ঘ দিন আগে মোমিনা বিবির বিয়ে হয়েছিল অসমে। কিন্তু বহুকাল যাবত তিনি সেখানে থাকেন না।