নিজস্ব প্রতিনিধি: উপনির্বাচনে বঙ্গে ভরাডুবি বিজেপির(BJP)। গতকাল ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায় ছটি কেন্দ্রেই ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। এমনকি ২০২১ সালে বিজেপির দখলে থাকা মাদারিহাট কেন্দ্রের মানুষরাও পদ্মফুল ত্যাগ করে আস্থা রেখেছেন জোড়াফুলে। ফলে বাংলার বুকে শাসন করার স্বপ্ন ঘুচে গিয়েছে বিজেপির। কোনওরকমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে সিপিএম এবং নির্দলদের সঙ্গে প্রায় একই সারিতে জায়গা হয়েছে পদ্ম-পার্টির। এর ফলে অবশ্য চাপে পড়তে হয়েছে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বকে কারণ এই ফলাফলে মোটেই খুশি নন দলের ওপরতলার মাথারা। নির্বাচনের ফলাফলের পরই রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বদের সাফ জানানো হয়েছে, এবার আর কোনও অজুহাত দেওয়া যাবে না। কেন উপনির্বাচনে এরকম বিপর্যয় হল, তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করে রিপোর্ট পেশ করতে হবে দলের কাছে। পদ্ম-দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার সুবাদে বঙ্গে এই হারের দায় রয়েছে সুকান্ত মজুমদারের উপরেও। অথচ তাঁর কাছেও নেই উপযুক্ত জবাব। দিনের পর দিন ভুয়ো রিপোর্ট পাঠিয়ে গিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’, ঝাড়খণ্ড দখলের পরে স্ত্রী কল্পনাকে কুর্নিশ জানালেন হেমন্ত
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাজ্যের ১৯টি লোকসভা আসনে জিতে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল বিজেপি, ভেবেছিল বাংলা দখলের লড়াইয়ে এবার তাঁরাই জয়ী হবে। কিন্তু খেলা ঘুরে যায় ২০২১ সালে। বহিরাগতদের পিছনে ফেলে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়ে বাংলার আসনে প্রত্যাবর্তন ঘটে বাংলার মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরপর থেকেই ক্রমশ রাজ্যে ক্ষমতা হারাতে শুরু করে বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বদের মধ্যেও শুরু হয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। এরপর ক্রমশ ছোট হয়ে আসতে শুরু করে বিজেপির পরিসর। বর্তমানে তা এমনই শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে যে মাদারিহাট কেন্দ্রেও গো হারা হেরেছে বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ সাতসকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে ছাই উল্টোডাঙায় রেললাইনের পাশের বস্তি
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, উপনির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়না, তিনি নাকি এই ফলাফলের বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। এদিকে সূত্রের খবর, উপনির্বাচনে ভরাডুবির কারণে বঙ্গ নেতৃত্বের উপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডা। মাদারিহাট কেন্দ্রেও কেন পরাজয় ঘটল তার কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে দীর্ঘদিন দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন সুকান্তবাবুরা। কিন্তু সেই রিপোর্ট যে আদৌ সত্যি নয় তা ধরা পড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের কাছে। আগামী সোমবার থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ফলে দিল্লিতে থাকবেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদরা। বাংলায় ভরাডুবির কারণ নিয়ে আলোচনাসভা হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ওই আলোচনা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে কারণ দিল্লির বিজেপি নেতারাও অত দূরে থেকেও বোধহয় এখন অনুমান করতে পারছেন বাংলায় রাজত্ব করার ভাগ্য তাঁদের কপালে লেখা নেই।