নিজস্ব প্রতিনিধি:- কথায় আছে, ‘ফেল কড়ি, মাখো তেল’। এবার সেই পন্থাতেই মিলছে ভুয়ো পরিচয় পত্র। এখনও অশান্ত হয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি হিন্দুদের ওপর চলছে লাগাতার আক্রমণ। এই আক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক বাংলাদেশি হিন্দুই এই রাজ্যে চলে আসার চেষ্টা করছেন। এবার সেই আবহে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, টাকার বিনিময়ে ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে রাজ্যের নদীয়ায় থাকছেন একাধিক বাংলাদেশি।
গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা এই বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে একাধিক তথ্য উদ্ধার করেছেন। জানা গিয়েছে, ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রবেশ তো করে ফেলা যায়। সেই সঙ্গে মেলে পরিচয়পত্র, সাথে পাওয়া যায় বাবা-মা। জানা যায়, টাকার দিলে বাবা-মাও তৈরি করে ফেলা যায়। আত্মীয় তৈরি করে নেওয়া যায়। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা দিলেই সহজেই পেয়ে যাওয়া যায় ভারতীয় পরিচয় পত্র। কেউ কেউ আবার সুবিধার্থে নিজের নাম, পদবী, ধর্ম পর্যন্ত বদল করে ফেলেন। এখানেই শেষ নয়। জমি জায়গা কিনে ব্যবসা থেকে শুরু করে চাকরিও করতে শুরু করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জেলায় একাধিক পরিবারের রয়েছে দুই দেশের নাগরিকত্ব। ওই পারে জমি রয়েছে, আবার এখানেও তারা এসে জমি জায়গা কিনছে, বসবাস করছে। এমনকী পরবর্তীকালে তারা পাসপোর্ট বানিয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। কেউ কেউ বলছেন, এই অনুপ্রবেশের পিছনে প্রশাসনিক স্তরের একাংশ না থাকলে, এটা কখনই সম্ভব হত না। প্রথমে প্রবেশ করিয়ে কারও বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়, পরে সুযোগ বুঝে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন যদি আগে থেকে ব্যবস্থা নিত তাহলে এই ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটত না।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে প্রায় ১৯০ জন অনুপ্রবেশকারী ও দালালকে গ্রেফতার করেছে রানাঘাট জেলা পুলিশ। গত দেড় মাসেই গ্রেফতার হয়েছেন ৫২ জন। গত পাঁচ বছরে লক্ষাধিক বাংলাদেশি নদিয়া সীমান্ত হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে সূত্র মারফত জানা যায়। এদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম, হিন্দু, পুরুষ, মহিলা বৃদ্ধ ও শিশুরাও।