নিজস্ব প্রতিনিধি: গোটা গ্রাম জুড়ে জাল বিস্তার করেছে এক অজানা জ্বর। আতঙ্কে ত্রস্ত এলাকাবাসীরা। অজানা জ্বরে(Unknown Fever) ভুক্তভোগী মালদহ জেলার(Malda District) ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এক গ্রামের বাসিন্দারা। উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এক বা দুই দিন শরীরে জ্বর(Viral Fever) থাকছে। তারপর সারা শরীরে শুরু হচ্ছে অসহ্য যন্ত্রণা। মূলত হাতে ও পায়ে ব্যথা থাকছে তাই হাঁটাচলা করতে কষ্ট হচ্ছে, এমনটাই জানাচ্ছেন ওই অজানা জ্বরের ভুক্তভোগীরা। ওষুধ খেলেও কোনও কাজ হচ্ছে না, দাবি তাঁদের। ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর কমলেও শরীরের ব্যথা কমছে না।
আরও পড়ুনঃ কলেজে ভর্তির নামে লক্ষাধিক টাকার হাত সাফাই, অভিযোগে শীলমোহর স্বাস্থ্য ভবনের
প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে এই জ্বরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতের কলাইবাড়ি গ্রামে। ইতিমধ্যেই কলাইবাড়ির সরকারপাড়া, তালুকদার পাড়া, চৌধুরী পাড়া ও ধানুকপাড়ায় এই জ্বরের প্রকোপ বেশি রয়েছে। এই চারটি পাড়ায় প্রায় চার হাজার বাসিন্দার বসবাস। তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ গ্রামবাসীই এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অজানা জ্বরের প্রকোপে এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে ওই স্থানে মেডিক্যাল টিম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মতো স্বাস্থ্যকর্মীরা আসেন এবং রোগের লক্ষণ দেখে ওষুধ দেন। কিন্তু এলাকাবাসীদের দাবি, ওষুধ খেয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। শরীরে ব্যথা থেকে যাচ্ছে। শরীর দুর্বল থাকছে সবসময়। জ্বরের হাত থেকে সহজে রেহাই মিলছে না।
আরও পড়ুনঃ বিশেষ দিনের বিশেষ বিনিয়োগ, কেন ভারতে এত গুরুত্বপূর্ণ ‘মুহুরত ট্রেডিং’!
কোনও মশাবাহিত রোগ এই জ্বরের উৎসের কারণ কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে একটি টিম এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিল। তাঁরা এলাকাবাসীদের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যত্রতত্র যাতে জল না জমে থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী বলেন, ‘এখনও সঠিক ভাবে বলা যাবে না এটি কি রোগ। আপাতত লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে চিকুনগুনিয়া।’ এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রক্তের নমুনাগুলি বাইরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরদারিতে রয়েছে। দলীয় কর্মীরা প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।