নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশের চাকরি করার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বছর একুশের সদ্য স্নাতক উত্তীর্ণ আলফা খাতুনের। নাদনঘাটের নসরতপুর সিদ্ধেপাড়ার বাসিন্দা আলফা সদ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সাম্মানিক স্নাতক হিসেবে উত্তীর্ণ হন। এরপর পুলিশের(Police Job) চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য নিয়মিত অনুশীলনে যেতেন ওই তরুণী। সেই প্র্যাকটিস সেরে ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার পথেই ট্রেন থেকে আচমকা পড়ে যান আলফা। ঘটনাটি ঘটেছে, কালীনগর ও নবদ্বীপধাম(Nabadwip Dham Station) স্টেশনের মাঝে। চলন্ত ট্রেন থেকে(Train Accident) পড়ে যাওয়ার কারণে গুরতর জখম হন আলফা। এরপর তাঁকে কালনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে তরুণীর পরিবারে।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুরে প্রৌঢ়ের গলা কেটে খুন, দোকান থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ
মৃতার বাবা সাদেক শেখ জানান, তাঁর পাঁচ মেয়েরই লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক। চতুর্থ মেয়ে আলফার ইচ্ছে ছিল পুলিশে চাকরি করার। রোজ ভোরে ট্রেন ধরে সে চলে যেত নবদ্বীপে, শারীরিক সক্ষমতার অনুশীলনে। সোমবারও ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে সে বেরিয়ে যায়। সাড়ে ৮টা বেজে গেলেও বাড়ি না ফেরায় স্ত্রী বলেন মেয়েকে ফোন করতে। ফোন করার পর তা রিং হয়ে গেলেও কেউ ধরেনি। কিছুক্ষণ পর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই জিআরপির তরফ থেকে তাঁদেরকে ফোন করে কালনা হাসপাতালে আসার জন্য বলা হয়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েই এই মৃত্যু, জানিয়েছে জিআরপি। ‘মেয়ের পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’ বলতে বলতেই গলা ধরে আসে বাবার।
আরও পড়ুনঃ সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে! অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার ঘটনায় ক্রমশ বাড়ছে জটিলতা
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে জিআরপি। কিভাবে ওই তরুণী ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন তা খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ। কালনা জিআরপি-র ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ মৃতা তরুণীর ফোনের কল লিস্ট ও যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছে জিআরপি।