নিজস্ব প্রতিনিধি: এক দলের কাছে চতুর্থবার শিরোপার হাতছানি। অন্য দলের সামনে প্রথমবার শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। এক দল তারুণ্যে ভরপুর। অন্য দলের বড় অস্ত্র অভিজ্ঞতা। দুই ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আজ শনিবার (৩১ মে) রাতে মিউনিখে ইউরোপ সেরা হওয়ার মহাযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিলান ও ফ্রন্সের পিএসজি। ভারতীয় সময় রাত সাড়ে বারোটায় মহাযুদ্ধ শুরু হবে।
২০১০ সালে শেষ বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতা ইন্টার মিলানের বুড়ো খেলোয়াড়রা চলতি মরশুমে ভেল্কি দেখিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন ও সেমিফাইনালে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করেছেন। দলটির মূল একাদশের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ত্রিশের বেশি। মার্তিনেজ, ডামফ্রিসরা ২০২৩ সালেও ফাইনালে। সেবার ম্যানসিটির কাছে হারলেও এবার ফেভারিট পিএসজির বিপক্ষে জয়ের ছবি আঁকছেন ইন্টার কোচ সিমোন ইনজাঘি। সাংবাদিক সম্মেলনে শিরোপা জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা জানি ফাইনালে ওঠার চেয়েও কঠিন ফাইনালে জেতা। তবে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলকে হারিয়ে আসার পর জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছছি না।’ নাপোলির কাছে সিরি আ লিগ হাতছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা ইউরোপ সেরা হয়ে ঘোচাতে চাইছেন ইনজাঘির শিষ্যরা।
অন্যদিকে, মার্সেইয়ের পর দ্বিতীয় ফরাসি ক্লাব হিসাবে ইউরোপের সেরা হওয়ার তকমা জয়ের সুবর্ন সুযোগ এসেছছে পিএসজির কাছে। অতীতে জালটান ইব্রাহিমোভিচ, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নিয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি পিএসজি। ২০১৯-২০ মরশুমে ফাইনালে উঠেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। তারকাদের বিদায়ের পর তারুণ্যনির্ভর দল নিয়েই ইতিহাস রচনা করতে চাইছেন লুইস এনরিকে। দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ তারুণ্য। দেম্বেলে, হাকিমি, ডনারুমা, বারকোলা, খভিচারা গোটা মরশুমে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। তাই জয় ছাড়া আর কিছু ভাবতে রাজি নন পিএসজি কোচচ। তাঁর কথায়, ‘প্রথমবার কোনও ট্রফি জেতা সব সময় কঠিন। তবে আমরা প্যারিসের প্রথম ক্লাব হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়তে চাই।’ মিউনিখের মাটিতেই ৩২ বছর আগে ১৯৯৩ সালে ফাইনালে ইতালির এসি মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মার্সেই। এবার কি ইতিহাস গড়তে পারবে পিএসজি? জবাব পেতে অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু।