নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ঘরের মাঠে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হেলায় হারিয়ে দিলেন হার্দিক পাণ্ড্যরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলেছিলেন প্যাট কামিন্সরা। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতে ছয় উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বল হাতে ভেল্কি দেখানোর পরে ব্যাট হাতেও গর্জে উঠলেন উইল জ্যাকস। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল)ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। শুরু থেকে যশপ্রীত বুমরাহ-উইল জ্যাকসদের আক্রমণ ভোঁতা করে দিয়ে রান মেশিন সচল রেখেছিলেন হায়দরাবাদের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেড। এর মধ্যে অভিষেক মারমুখি ছিলেও, স্বভাববিরুদ্ধভাবে রক্ষণের খোলসে নিজেকে বন্দি করে রেখেছিলেন হেড। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান তোলে হায়দরাবাদ। অষ্টম ওভারে বল করতে এসে মুম্বইকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। হায়দরাবাদের ওপেনার অভিষেককে (২৮ বলে ৪০) ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন। পরের ওভারে উইল জ্যাকসের বলে সাজঘরে ফেরেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ঈশান কিশন (২)। ১২তম ওভারে জোর ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। জহেডকে (২৯ বলে ২৮ রান) ফেরান জ্যাকস।
পর পর উইকেট হারানোর জেরে হায়দরাবাদের রান ওঠার গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে যায়। ১৫ ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ১০৫ তোলেন প্যাট কামিন্সরা। চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে নীতীশ রেড্ডি ও হেনরিখ ক্লাসেন প্রথম দিকে ধরে খেলে রান মেশিন সচল রাখতে গিয়ে দলকে খানিকটা চাপেও ফেলে দেন। ১৭তম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বলে ফিরে যান ঘুমপাড়ানি ইনিংস খেলা নীতীশ কুমার রেড্ডি। তিলক ভার্মার হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ২০ বলে ১৯ রান। এর পরেই চাপ কাটাতে পাল্টা মারের পথে হাঁটেন ক্লাসেন। ১৮তম ওভারে দীপক চহারের বলে দুই ছক্কা ও দুটি চারের সাহায্যে ২১ রান নেন তিনি। কিন্তু পরের ওভারেই যশপ্রীত বুমরাহের প্রথম বলে ফিরে যান প্রোটিয়া ব্যাটার। আউটের আগে করে যান ২৭ বলে ৩৭ রান। এর পর অনিকেত ভার্মা ও প্যাট কামিন্সকে জুটি বেঁধে দলকে ১৬২ রানে পৌঁছে দেন। অনিকেত ১৮ ও কামিন্স ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
জয়ের জন্য ১৬৩ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে শুরু করেন ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা। বোঝাই যাচ্ছিল, চলতি আইপিএলে নিজের পুওর ফর্ম নিয়ে খানিকটা সঙ্কোচেই রয়েছেন ভারত অধিনায়ক। আতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে চতুর্থ ওভারেই প্যাট কামিন্সের বলে সাজঘরের পথ ধরেন রোহিত। আউট হওয়ার আগে করেন ১৬ বলে ২৬। এর পরে রায়ান রিকেলটন ও উইল জ্যাকস দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। দুজনে ২৪ বলে ৩৭ রান যোগ করেন। অষ্টম ওভারে হর্ষল পটেলের বলে আউট হন রিকেলটন (২৩ বলে ৩১)। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে মুম্বইকে একশো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন জ্যাকস ও সূর্য কুমার যাদব। তৃতীয় উইকেটে ৫২ রান যোগ করেন। সূর্যকে (২৬) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কামিন্স। নিজের পরের ওভারে জ্যাকসকেও (৩৬) ফেরান হায়দরাবাদ অধিনায়ক। পর পর দুই উইকেট খুঁইয়ে খানিকটা চাপে পড়ে যায় মুম্বই।
পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করেন তিলক ভার্মা ও হার্দিক পাণ্ড্য। ১৮তম ওভারে বল করতে এসে জোড়া আঘাত হানেন এহসান মালিঙ্গা। প্রথমে ফেরান হার্দিককে (৯ বলে ২১)। পর নমন ধীরকে (০)। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন তিলক ভার্মা। তিনি ১৭ বলে ২১ করে অপরাজিত থাকেন। হায়দরাবাদের হয়ে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ২৬ রান তিন উইকেট নিয়েছেন।