নিজস্ব প্রতিনিধি, হায়দরাবাদ: হতচ্ছাড়া বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্লেঅফে ওঠার স্বপ্ন। সোমবার (৫ মে) রাতে লাগাতার বৃষ্টিতে ব্যাট করার সুযোগই পাননি প্যাট কামিন্সরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ক্যাপিটালস। আর এক পয়েন্ট পাওয়ায় প্যাট কামিন্সরা ১১ ম্যাচ শেষে গিয়ে দাঁড়ায় সাত পয়েন্টে। বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও শেষ চারে পৌঁছনোর কোনও সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টি প্যাট কামিন্সদের স্বপ্ন ভাঙলেও বাঁচিয়ে দিয়েছে দিল্লিকে। এক পয়েন্ট পাওয়ার দৌলতে প্লেঅফের লড়াইয়ে টিঁকে রইলেন অক্ষর পটেলরা।
ঘরের মাঠে টস জিতে এদিন প্রথমে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠান হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরু থেকেই হায়দরাবাদের বোলারদের আগুনে বোলিংয়ের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দিল্লির টপ অর্ডার ব্যাটিং। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার করুণ নায়ারকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিল্লিকে প্রথম ধাক্কা দেন কামিন্স। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগে তৃতীয় ওভারে কামিন্সের বলে সাজঘরের পথ ধরেন ফ্যাপ ডু প্লেসিস। তিনি করেন মাত্র ৩ রান। পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে অভিষেক পোড়েলকে (১০ বলে ৮ রান) ফিরিয়ে ফের ধাক্কা দেন কামিন্স। ষষ্ঠ ওভারে হর্ষল পটেলের বলে সাজঘরের পথ ধরেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। তিনি করেন ৭ বলে ৬ রান। প্রথম পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ২৬ রানে চার উইকেট খুঁইয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দিল্লি।
ওই বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের জন্য যার মুখাপেক্ষী ছিলেন দিল্লির সমর্থকরা, সেই লোকেশ রাহুলও হতাশ করেন। দলকে গভীর হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত করে জয়দেব উনাদকটের বলে তিনিও প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। আউটের আগে করেন ১৪ বলে ১০ রান। এর পরে ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বেঁধে হায়দরাবাদের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ত্রিস্তান স্টাবস ও বিপরাজ নিগম। দুজনে দাঁতে-দাঁত চেপে ক্রিজে আঁকড়ে থেকে রান মেশিনকে সচল করার চেষ্টা করেন। ভালই খেলছিলেন দুজনে। ১৩তম ওভারে জিশান আনসারির বলে রান নিতে গিয়ে অনিকেত বর্মার ছোড়া বলে আউট হয়ে যান বিপরাজ (১৮)। ভেঙে যায় ৩৩ রানের জুটি। আট নম্বরে নেমে হায়দরাবাদের বোলারদের পাল্টা মারের পথে হাঁটেন আশুতোষ শর্মা। তিনি ও স্টাবস মিলে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করে দেন। শেষের দিকে হাত খুলে খেলতে থাকেন স্টাবসও। দুজনে ৪৫ বলে ৬৬ রান যোগ করেন। শেষ ওভারে আশুতোষকে (২৫ বলে ৪১) থামান এসান মালিঙ্গা। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলতে সক্ষম হয় দিল্লি। স্টাবস ৪১ রানে ও মিচেল স্টার্ক ১ রানে অপরাজিত থাকেন।