নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউ চণ্ডীগড়: একেই বোধ হয় বলে, ‘তীরে এসে তরী ডোবা’। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে ১১ বছর বাদে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল পঞ্জাব কিংস। কিন্তু প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারদের দাপটে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পঞ্জাবের ব্যাটিং অর্ডার। মার্কাস স্টোইনিস (২৬), আজমাতুল্লাহ ওমরজাই (১৮) ও প্রভসিমরান সিংহ (১৪) বাদে অন্য কোনও ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি। ফলস্বরূপ ১৪.১ ওভারে ১০১ রানেই গুটিয়ে যায় পঞ্জাব। আরসিবির হয়ে সুয়শ শর্মা ও জশ হেজলউড তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। যশ দয়াল নিয়েছেন দুটি উইকেট। বাকি দুই উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার ও রোমারিও শেফার্ড।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টস জিতে প্রথমে পঞ্জাব কিংসকে ব্যাট করতে পাঠান আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। কিন্তু শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর বোলারদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের সামনে পড়ে নাস্তানাবুদ হন পঞ্জাবের ব্যাটাররা। যার উপরে বড় ভরসা ছিল সেই প্রিয়াংশ আর্য দ্বিতীয় ওভারে যশ দয়ালের বলে ফিরে যান। তিনি করেন সাত রান। সেই ধাক্কা সামলানোর আগে পরের ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে সাজঘরের পথ ধরেন প্রভসিমরান সিংহ (১৮)। দলকে বিপদে ফেলে জশ হেজলউডের বলে ফিরে যান পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (২)। পরের ওভারে একই পথের পথিক হন জস ইংলিস (৪)। তাঁকে ফেরান হেজলউড। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পঞ্জাব।
নেহাল ওয়াধেরাও দলের বিপদের দিনে রুখে দাঁড়াতে পারেননি। যশ দয়ালের বলে তিনি ফেরেন মাত্র আট রান করে। ছয় নম্বরে নেমে একা কুম্ভ হয়ে লড়াইয়ের একটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন মার্কাস স্টোইনিস। কিন্তু সতীর্থদের কোনও সাহায্য পাননি। ক্রিজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্তে সতীর্থদের জঘন্য ব্যাটিংয়ের সাক্ষী থেকেছেন। নবম ওভারে বল করতে এসে পঞ্জাবকে জোড়া ধাক্কা দেন সূয়শ শর্মা। দ্বিতীয় বলে ফেরান শশাঙ্ক সিংহকে (৩)। পঞ্ম বলে মুশীর খানকে (০)। অষ্টম উইকেটে স্টোইনিস ও আজমাতুল্লাহ প্রতিরোধের একটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সফল হননি। ১১তম ওভারে সূয়শের বলে ফিরে যান স্টোইনিস (২৬)।
নবম উইকেটে ওমরজাই ও হরপ্রীত ব্রার দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে দলকে একশো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান। যদিও সফল হননি। ১৪তম ওভারে হরপ্রীতকে (৪) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রোমারিও শেফার্ড। পরের ওভারে ওমরজাইকে (১৮) ফিরিয়ে পঞ্জাবের কফিনে শেষ পেঁরেক পোঁতেন হেজলউড।