নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: মিচেল মার্শ ও আইডেন মার্করামের দাপুটে ব্যাটিংয়ের সুবাদে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে লড়াকু ইনিংস গড়ল লখনউ সুপার জায়ান্টস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তুলেছেন ঋষভ পন্থরা। মুম্বইয়ের হয়ে চার ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন হার্দিক পাণ্ড্য।
একানা স্টেডিয়ামে এদিন টসে জিতে প্রথমে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই কার্যত তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন ওপেনার মিচেল মার্শ। আগের ম্যাচে কলকাতাকে নাকানিচোবানি খাওয়ানো অশ্বীন কুমার থেকে শুরু করে দীপক চহার-কাউকেই রেয়াত করেননি। মার্শের তাণ্ডবে কার্যত লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলেন মুম্বইয়ের বোলাররা। সাতটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ২৭ বলেই নিজের অর্ধশতরান তুলে নেন অজি ব্যাটার। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬৯ রান তোলে লখনউ। শেষ পর্যন্ত সপ্তম ওভারে বল করতে এসে মার্শের (৩০ বলে ৬০) তাণ্ডব থামান ভিগনেশ পুথুর। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেই হাত চালিয়ে খেলতে শুরু করেন ছন্দে থাকা নিকোলাস পুরান। যদিও এদিন বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। হার্দিক পাণ্ড্যর বলে দীপক চহারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। আউটের আগে করে যান ৫ বলে ১২ রান। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এদিনও চরম ব্যর্থ হন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। হার্দিক পাণ্ড্যর বলে করবিন বস্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। লখনউ অধিনায়কের অবদান পাঁচ বলে মাত্র ২ রান।
এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে একের পর এক সতীর্থের আসা যাওয়া দেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নেন লখনউয়ের ওপেনার আইডেন মার্করাম। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেন আয়ুষ বাদোনিও। দুজনে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। ১৮ বলে ৩০ রান করে ফেরেন বাদোনি। তাঁকে সাজঘরে ফেরান অশ্বীন কুমার। এর পরে মারমুখী মেজাজে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন মার্করাম। তবে অর্ধশতরান পূর্ণের পরেই হার্দিক পাণ্ড্যর বলে রাজ অঙ্গদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার করেন ৩৭ বলে ৫৩ রান। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবদুল সামাদ প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ৬ নম্বরে নামা ডেভিড মিলার শেষের দিকে খানিকটা বিধ্বংসী ব্যাট করার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ ওভারে লখনউকে জোর ধাক্কা দেন হার্দিক। প্রথম তিন বলে ১২ রান খরচ করার পরে চতুর্থ বলে ফেরান মিলারকে (১৩ বলে ২৭ রান)। পরের বলে ফেরান আর্শদীপ সিংহকে (০)। শেষ বলে হার্দিকের হ্যাটট্রিক রুখে দেন আবেশ খান (অপরাজিত ২)।