নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: ব্যাট হাতে পুরনো মেজাজে পাওয়া গেল মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে। তাঁর সঙ্গে যোগ্যসঙ্গত করলেন শিভম দুবেও। দুজনের যুগলবন্দিতেই টানা পাঁচ ম্যাচ বাদে জয়ের মুখ দেখল চেন্নাই সুপার কিংস। সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে তিন বল বাকি থাকতেই হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে জয় হাসিল করল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা। শিভম ৩৭ বলে ৪৩ এবং ধোনি ১১ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউয়ের হয়ে রবি বিষ্ণোই ১৮ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন।
এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় লখনউ। খলিল আহমেদের বলে ফিরে যান আইডেন মার্করাম (৬)। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগে ফের ধাক্কা খায় লখনউ। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত সর্বোচচ্চচ রানকারী নিকোলাস পুরান ফেরেন মাত্র ৮ রান করে। ক্যারিবীয় ব্যাটারকে সাজঘরের পথ ধরান অংশুল কম্বোজ। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে সেই ধাক্কা খানিকটা সামাল দেন মিচেল মার্শ ও লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। পাল্টা মারের পথে হেঁটে দুজনে ৩৩ বলে ৫০ রান যোগ করেন। মিচেলকে (৩০) ফিরিয়ে ওই জুটি ভাঙেন রবীন্দ্র জাদেজা।
চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন ঋষভ পন্থ ও আয়ুষ বাদোনি। আগের পাঁচ ম্যাচে ব্যাটে ব্যর্থ পন্থকে এদিন যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে প্রথম থেকে। তবে বড় শট খেলার ঝুঁকি নেননি। আয়ুষ বাদোনি মারমুখী মেজাজে ব্যাট করছিলেন। ১৪তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পিছনে দাঁড়ানো মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দস্তানা বন্দি হয়ে ফিরে যান। ১৭ বলে দুটি ছক্কার সাহায্যে ২২ রান করেন বাদোনি। আর তিনি ফেরার পরেই রান তোলার শেষের গতি খানিকটা শ্লথ হয়ে যায় লখনউয়ের।
তবে ১৮ তম ওভার থেকেই হাত খুলে মারতে শুরু করেন দুজনে। মাথিশা পাথিরানার এক ওভারেই ১৮ রান নেন। ৪২ বলে চারটি ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে চলতি আইপিএলে প্রথম নিজের অর্ধশতরান তুলে নেন ঋষভ পন্থ। শেষ ওভারে অবশ্য তিন ধাক্কা খায় লখনউ। মাথিশা পাথিরানার বলে পর পর রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সামাদ (২০) ও ঋষভ পন্থ (৬৩)। শেষ বলে শেখ রশিদের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন শার্দূল ঠাকুর (৬)। সাত উইকেট হারিয়ে ১৬6 রানেই থমকে যায় লখনউয়ের ইনিংস।
অল্প রানে লখনউকে বেঁধে রাখার পরে জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার শেখ রশিদ ও রাচিন রবীন্দ্র। তবে প্রথম পাওয়ার প্লে-তে হাত খুলে খেলেন দুজনে। ২৬ বলেই দলকে ৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ষষ্ঠ ওভারে আবেশ খানের বলে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রশিদ (১৯ বলে ২৭)। ভালই খেলছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। কিন্তু দ্রুত রান তুলতে গিয়ে অষ্টম ওভারে আইডেন মার্করামের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন। রাচিন করেন ২২ বলে ৩৭। পরের ওভারেই ফিরে যান চূড়ান্ত অফ ফর্মে থাকা রাহুল ত্রিপাঠী। তাঁর অবদান ১০ বলে ৯ রান। রবীন্দ্র জাদেজা যে সত্যি চেন্নাইয়ের বড় বোঝা, এদিন ফের প্রমাণ হয়ে গেল। দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারের পরিবর্তে কাণ্ডজ্ঞানহীন শট খেলে ১১ বলে ৭ রান করে ফেরেন।
এর পরে বিজয় শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে দলকে একশো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন শিভম দুবে। যদিও পঞ্চম উইকেটের পার্টনারশিপে মাত্র ১৫ রান যোগ হয়। ৮ বলে ৯ রান করে দিগবেশ সিংহের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বিজয়। ১১১ রানের মধ্যে অর্ধেক ব্যাটার সাজঘরে ফেরায় ফের হারার আতঙ্ক চেপে বসে চেন্নাই শিবিরে। ষষ্ঠ উইকেটে শিভমের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে চাপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে থাকেন সমালোচনায় জর্জরিত চেন্নাই অধিনায়ক। ধীরে-ধীরে লখনউয়ের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল পাঁচ রানের। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন শিভম। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে নন স্ট্রাইকে চলে যান ধোনি। আবেশ খানের তৃতীয় বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে তিন বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান শিভম।