নিজস্ব প্রতিনিধি করাচি: ব্যাট করতে নামার আগেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করতে নেমে ইংলিশদের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য অনায়াসেই টপকে গেল প্রোটিয়ারা। দলে ফিরে আসা হাইনরিখ ক্লাসেন আর রাশি ভ্যান ডার দুসেনের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২৯.১ ওভারে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে জয় হাসিল করলেন টেম্বা বাভুমারা। আর ওই জয়ের ফলেই গ্রুপ সেরা হলেন।
শনিবার (১ মার্চ) করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। মার্কো জানসেনের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ইংল্যান্ডের প্রথম সারির ব্যাটাররা। প্রথম ওভারেই মাত্র আট রান করে জানসেনের বলে ফেরেন ফিল সল্ট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে জেমি স্মিথকে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান জানসেন। সপ্তম ওভারে জানসেনের ফলে সাজঘরে ফেরেন বেন ডাকেটও (২৪)। ৩৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইংলিশরা। চতুর্থ উইকেটে জো রুট ও হ্যারি ব্রুক জুটি বেঁধে খানিকটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। কিন্তু লাভ হয়নি। ব্রুককে (১৯) ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন কেশব মহারাজ। পরের ওভারে ফিরে যান আগের ম্যাচে ১২০ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলা জো রুট (৩৭)।
সাত নম্বরে নামা লিয়াম লিভিংস্টোন ব্যাট হাতে ফের ব্যর্থ হয়েছেন। ১৫ বলে ৯ রান করে ফিরে যান। জেমি ওভারটন (১১), আদিল রশিদরাও (২) কিছু করতে পারেননি। অধিনায়ক জস বাটলার এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাঁকে ফেরান লুঙ্গি এনগিডি। ৪৩ বলে ২১ রানের এক শ্লথ ইনিংস খেলে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। জোফ্রা আর্চার হাত খুলে মারার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ৩১ বলে ২৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৩৭.২ ওভারে ১৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। প্রোটিয়াদের হয়ে উইয়ান মুলডার ২৫ রানে তিনটি এবং মার্কো জানসেন ৩৯ রানে তিনটি উইকেট নেন।
ব্যাট করতে নামার আগেই সেমিফাইনালে ওঠার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডের দেওয়া ১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। তৃতীয় ওভারে জোফ্রা আর্চারের প্রথম বলেই ফিরে যান ত্রিস্তান স্টাবস (০)। রায়ান রিকেলটন হাত খুলে পাল্টা আক্রমণের পথে যান। যদিও বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি তিনি। পাঁচটি চারের সাহায্যে ২৫ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আর্চারের বলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কিন্তু তাতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দুই আভিজ্ঞ ব্যাটার রাশি ভ্যান ডার দুসেন ও হাইনরিখ ক্লাসেন মাথা ঠাণ্ডা করে খেলে ইংলিশ বোলারদের আক্রমণ নির্বিষ করে দেন। ক্রিজের এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন দুসেন। অন্য প্রান্তে ইংল্যান্ড বোলারদের নির্দয়ভাবে প্রহার করতে থাকেন ক্লাসেন। ১৮.৪ ওভারেই একশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মারকুটে মেজাজে নিজের অর্ধশতরান তুলে নেন ক্লাসেন। ঠুকঠাক করে নিজের অর্ধশতরানে পৌঁছে যান দুসেন। তার পরেই স্বমূর্তি ধরেন তিনি। দুই ব্যাটারের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে যান ইংলিশ বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ২৯তম ওভারে ক্লাসেনকে (৫৬ বলে ৬৪) ফিরিয়ে ১২৭ রানের জুটি ভাঙেন আদিল রশিদ। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। পরের ওভারেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন দুসেন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৮৭ বলে ৭২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে। ডেভিড মিলার অপরাজিত থেকে যান এক রানে।