নিজস্ব প্রতিনিধি, করাচি: ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলার মাঝপথেই রশিদ খানদের স্বপ্নভঙ্গ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। শনিবার (১ মার্চ) প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মার্কো জানসেনের আগুনে বোলিংয়ে ৩৮.২ ওভারে ১৭৯ রানেই গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ফলে নেট রান রেটের নিরিখে শেষ চারের ছাড়পত্র আদায় করে নিলেন টেম্বা বাভুমারা। ম্যাচের ফলাফল মূল্যহীন হয়ে দাঁড়াল।
দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটের নিরিখে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শনিবার (১ মার্চ) করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল প্রোটিয়ারা। একই গ্রুপে থাকা আফগানিস্তানের পয়েন্টও ছিল তিন। কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকেই গিয়েছিলেন মহম্মদ নবি-রশিদ খানরা। তবে খাতায়-কলমে টিকে ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের উপরে নির্ভর করছিল সেমির সমীকরণ।যদিও যথেষ্ট অবাস্তব ছিল সমীকরণ। কেননা, একমাত্র দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাট করে ২০৭ রানে হারলেই ছিটকে যেতেন বাভুমারা।
টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। মার্কো জানসেনের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ইংল্যান্ডের প্রথম সারির ব্যাটাররা। প্রথম ওভারেই মাত্র আট রান করে জানসেনের বলে ফেরেন ফিল সল্ট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে জেমি স্মিথকে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান জানসেন। সপ্তম ওভারে জানসেনের ফলে সাজঘরে ফেরেন বেন ডাকেটও (২৪)। ৩৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইংলিশরা। চতুর্থ উইকেটে জো রুট ও হ্যারি ব্রুক জুটি বেঁধে খানিকটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। কিন্তু লাভ হয়নি। ব্রুককে (১৯) ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন কেশব মহারাজ। পরের ওভারে ফিরে যান আগের ম্যাচে ১২০ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলা জো রুট (৩৭)।
সাত নম্বরে নামা লিয়াম লিভিংস্টোন ব্যাট হাতে ফের ব্যর্থ হয়েছেন। ১৫ বলে ৯ রান করে ফিরে যান। জেমি ওভারটন (১১), আদিল রশিদরাও (২) কিছু করতে পারেননি। অধিনায়ক জস বাটলার এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাঁকে ফেরান লুঙ্গি এনগিডি। ৪৩ বলে ২১ রানের এক শ্লথ ইনিংস খেলে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। জোফ্রা আর্চার হাত খুলে মারার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ৩১ বলে ২৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। প্রোটিয়াদের হয়ে উইয়ান মুলডার ২৫ রানে তিনটি এবং মার্কো জানসেন ৩৯ রানে তিনটি উইকেট নেন।