নিজস্ব প্রতিনিধি, লাহোর: বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। বৃষ্টির কারণে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গদ্দাফি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচ মাঝপথেই ভেস্তে গেল। দুই দলকেই এক পয়েন্ট করে দেওয়া হয়েছে। চার পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান রয়েছে তিন নম্বরে। শনিবার ইংল্যান্ডকে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়ে দেয় তাহলে বিদায় নেবে আফগানরা। গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিতে পৌঁছবে প্রোটিয়ারা। আর যদি টেম্বা বাভুমারা হেরে যায় সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান দুই দলের পয়েন্ট দাঁড়াবে তিন। নেট রান রেট দেখা হবে তখন। একমাত্র প্রোটিয়ারা ২০৭ রানে হারলেই সেমিতে যাওয়ার সুযোগ আসবে রশিদ খানদের। কিন্তু তা অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ শাহিদি। কিন্তু বাঁচা-মরার ম্যাচের শুরুটা ভাল করতে পারেনি আফগানিস্তানের দুই গোড়াপত্তনকারী ব্যাটার। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ফিরে যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ (০)। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকুল্লাহ অটল ৭০ রান যোগ করেন। আগের দিন ১৭৭ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলা জাদরান এদিন অবশ্য বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। তিনি ফিরে যান ২২ রান করে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে রহমত শাহ ফেরেন মাত্র ১২ রান করে। চতুর্থ উ্ইকেটে সেদিকুল্লাহের সঙ্গে জুড়ি বেঁধে ৬৮ রান যোগ করে দলকে দেড়শো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন আফগান অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ। যদিও তিনি এক প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ৩২তম ওভারে বল করতে এসে আফগানদের হয়ে কুম্ভের ভূমিকা নেওয়া সেদিকুল্লাহকে (৯৫ বলে ৮৫ রান) সাজঘরে ফেরত পাঠান স্পেনসার জনসন।
খানিকবাদে অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হয়ে যান হাশমাতুল্লাহ। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৪৯ বলে ২০ রান। অকারণে ঝুঁকি নিয়ে রান নিতে গিয়ে তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যান মহম্মদ নবি (১)। গুলাবদিন নায়েবও (৪) ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অষ্টম উইকেটে আজমাতুল্লাহ ওমরজাই ও রশিদ খান অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের পাল্টা আক্রমণে গিয়ে রান মেশিন সচল রাখার চেষ্টা চালান। ৪৬তম ওভারে রশিদকে (১৯) ফিরিয়ে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন বেন ডোয়ারসুইস।
ক্রিজের এক প্রান্ত ধরে রেখে ঝোড়ো ইনিংস খেলার চেষ্টা চালান ওমরজাই। ৫৪ বলে তিনটি ছক্কার সাহায্যে অর্ধশতরানে পৌঁছন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ৬৭ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান তিনি। শেষ বলে ফিরে যান নূর আমেদ (৮ বলে ৬ রান)। ৫০ ওভারে ২৭৩ রানে গুটিয়ে যায় আফগান ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বেন ডোয়ারসুইস ৯ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। স্পেনসার জনসন ১০ ওভারে ৪৯ রান খরচ করে দুই উইকেট নিয়েছেন। অ্যাডাম জাম্পা ৪৮ রানে দুই উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ম্যাট শর্ট এবং ট্র্যাভিস হেড। তবে চতুর্থ ওভারেই জীবন পান হেড। ব্যক্তিগত ৬ রানের মাথায় তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন রশিদ খান। জীবন ফিরে পেয়ে হাত খুলে খেলতে তাকেন হেড। তাঁর নির্দয় প্রহারে দিশেহারা হয়ে পড়েন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নেওয়া আজমাতুল্লাহ ওমরজাই-ফজলহক ফারুখিরা। যদিও শর্ট বেশিক্ষণ টেকেননি। পঞ্চম ওভারে ওমরজাইয়ের বলে গুলাবদিন নায়েবের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনি। আউট হওয়ার আগে তিনটি চার ও একটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ১৫ বলে ২০ রান করেন তিনি। শর্ট ফেরার পরেই দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান হেড ও অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। তবে অনেক বেশি আগ্রাসী ছিলেন একদিনের বিশ্বকাপের নায়ক হেড। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে অর্থাৎ ১০ ওভারে শর্টের উইকেট হারিয়ে ৯০ রান তোলে অজিরা। মাত্র ৩৪ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন হেড। ১২.৫ ওভারে বৃষ্টির কারণে বন্ধ করে দিতে হয় খেলা। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান দাঁড়ায় ১০৯/১।