নিজস্ব প্রতিনিধি: সব জল্পনার অবসান। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ। ফাইনা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। পুরো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। আজ শনিবার (২৬ জুলাই) এ খবর জানিয়েছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৫ সালের এসিসি পুরুষদের এশিয়া কাপের তারিখ নিশ্চিত করছি। মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আমরা ক্রিকেটের এক দর্শনীয় প্রদর্শনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি! বিস্তারিত সময়সূচি শিগগিরই প্রকাশিত হবে।’ শেষে হ্যাশটাগ দিয়ে তিনি লিখেছেন ক্রিকেটই জয়ী হল (#Cricketwins)।
চলতি বছরের এশিয়া কাপ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কিন্তু ওই প্রতিযোগিতা আদৌ আয়োজিত হবে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে ঢাকায় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকায় বৈঠকে যেতে রাজি হননি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। নিরাপত্তার অভাবের কারণে অগস্টে ভারতের ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরও বাতিল করা হয়েছে। ঢাকার পরিবর্তে অন্য কোনও দেশে ওই বৈঠক আয়োজনের জন্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বময় কর্তা মহসিন নকভিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিসিআইয়ের কর্তারা। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ঢাকায় বৈঠকের বিষয়ে গোঁ ধরে থাকেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তা। আর তাতেই চটেন বিসিসিআইয়ের কর্তারা। ঢাকা থেকে বৈঠক না সরালে এশিয়া কাপের আয়োজন করার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে হুঙ্কারও দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকতে পারেননি বিসিসিআই কর্তারা। গত ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকাতেই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বার্ষিক সভা বসে এবং ওই সভায় ভারতীয় বোর্ডের তরফে রাজীব শুক্ল ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে জট কাটে।
আসন্ন এশিয়া কাপে কে কোন গ্রুপে পড়বে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আটটি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতাটি দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে – গ্রুপ পর্ব এবং সুপার ফোর। দলগুলিকে চারটি করে মোট দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে গ্রুপের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সুপার ফোরের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। সুপার ফোর টেবিলের শীর্ষ দুটি দলের মধ্যে ফাইনাল খেলা হবে।
টুর্নামেন্টটি প্রথমে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ভারত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড একটি ভদ্রলোকের চুক্তি করে। তাতে বলা হয় যে ভারত এবং পাকিস্তান আপাতত কেউ কারও দেশে মাঠে গিয়ে খেলবে না। কোনও আসরে দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হলে হাইব্রিড মডেলে ওই ম্যাচের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ নিরপেক্ষ কোনও দেশের মাঠে খেলা হবে। এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি দলেরই একই গ্রুপে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কোনও অঘটন না ঘটলে সুপার ফোরেও মুখোমুখি হতে পারে।