Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব নিয়ে হনুমান চালিশায় লুকিয়ে এক আশ্চর্য তথ্য

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : পৃথিবীর আবর্তনের পাশাপাশি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব বহু যুগ ধরেই মানুষের অত্যন্ত কৌতূহলের বিষয়। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা একে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে সক্ষম হলেও, প্রাচীন শাস্ত্রে ও ধর্মীয় গ্রন্থেও পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব নিয়ে নানা উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হল হনুমান চালিশার “যুগ সহস্র যোজন পর ভানু” পঙক্তিটি । এই পাঠ্যাংশ এবং আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক পরিমাপ—দুটিকেই তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রায় কাছাকাছিই দাঁড়ায়।

ভক্ত তুলসী দাস বিরচিত হনুমান চালিশার লাইনটিতে রয়েছে :

“যুগ সহস্র যোজন পর ভানু,

লীল্যো তাহি মধুর ফল জানু।

এই শ্লোকে বলা হয়েছে, হনুমান ‘যুগ-সহস্র-যোজন’ দূরত্বে থাকা সূর্যকে মধুর ফল ভেবে খেতে চেয়েছিলেন। অনেকেই বলেন, এটি শুধু অলঙ্কারিক কাব্য নয়, বরং এতে রয়েছে এক অত্যাশ্চর্য গাণিতিক সত্য।

প্রচলিত গণনা অনুসারে:

  • ১ যুগ = ১২,০০০ বছর
  • ১ সহস্র = ১,০০০
  • ১ যোজন = ৮ মাইল (প্রাচীন ভারতীয় একক)

এখন,

যুগ × সহস্র × যোজন = ১২,০০০ × ১,০০০ × ৮ = ৯৬,০০,০০,০০০ মাইল

১ মাইল = ১.৬ কিমি হলে,

৯৬,০০,০০,০০০ × ১.৬ = ১৫৩,৬০,০০,০০০ কিমি

এটি আশ্চর্যজনকভাবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যের অত্যন্ত কাছাকাছি। তাই অনেক ভক্ত মনে করেন, এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন ভারতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের উচ্চতর জ্ঞান ছিল, যা কাব্য ছলে কবি তুলসীদাস উপস্থাপিত করেছিলেন।

 আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্বকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ১ জ্যোতির্বিদ্যা একক (Astronomical Unit – AU) হিসেবে। এর মান:

AU = ১,৪৯,৫৯,৭৮,৭০৭ কিমি (প্রায় ১৫ কোটি কিমি বা ৯৩ মিলিয়ন মাইল)

এই দূরত্বকে আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে বারবার পরিমাপ করা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য:

১৬৭২ সালে জিওভানি ক্যাসিনি এবং জিন রিচার মঙ্গল গ্রহের পজিশন এবং প্যারাল্যাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে পৃথিবী-সূর্যের দূরত্ব নির্ধারণ করেন।  আবার, আধুনিক যুগে, রাডার রিফ্লেকশন এবং লেজার রেঞ্জিং পদ্ধতির মাধ্যমে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের দূরত্ব আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞান বনাম পৌরাণিক বর্ণনা

যদিও হনুমান চালিশার গণনাটি আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করা যায় না (কারণ ‘যুগ’ ও ‘যোজন’ বিভিন্ন গ্রন্থে বিভিন্ন মানে ব্যবহৃত হয়েছে), তথাপি এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে প্রাচীন ভারতের সাহিত্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ নিয়ে ধারণা বা অন্তত কল্পনার একটি দৃষ্টান্ত ছিল। এটি প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক ভাষ্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একে আধুনিক বিজ্ঞানগত পরিমাপের সমতুল্য ধরে নেওয়া উপযুক্ত নয়।

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব হল  প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার, যা আধুনিক বিজ্ঞান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রমাণ করেছে। কিন্তু, নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, হনুমান চালিশার “যুগ সহস্র যোজন” বর্ণনাটি একটি প্রাচীন সাহিত্যিক অলঙ্কার, যা একদিকে ধর্মীয় ভাবনাকে শক্তিশালী করে, অন্যদিকে তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক বিস্ময়কর সাংখ্যিক সামঞ্জস্য।

তবে বিজ্ঞান ও ধর্মীয় কাব্যগ্রন্থের উদ্দেশ্য ভিন্ন—বিজ্ঞান অনুসন্ধান করে পরীক্ষার মাধ্যমে, আর কাব্য বা পুরাণ নির্দেশ করে বিশ্বাস, কল্পনা ও আধ্যাত্মিকতার পথে। সুতরাং, হনুমান চালিশার উক্তি বিজ্ঞানসিদ্ধ না হলেও এটি প্রাচীন ভারতের জ্ঞান, কল্পনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অসাধারণ নিদর্শন—যা বিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনায় নয়, বরং শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচ্য। এই দুই পথের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ার চেষ্টাই হোক আমাদের আধুনিক মানসিকতার পরিচায়ক।

জার্মান শেফার্ডের গলায় হনুমান চালিসা

হনুমান চালিসা পাঠ করছেন ?এই নিয়মগুলো জানেন তো !

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00