নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া টাকার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এবার দানবাক্সে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রুপোর গয়না পাওয়া গিয়েছে। গত এপ্রিলে শেষ বার মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেবার দানবাক্সে মিলেছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা নগদ, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার গয়না।
জনশ্রুতি অনুসারে, কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী একটি চর এলাকায় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের আস্তানা ছিল। তার মৃত্যুর পর সেখানে নির্মিত হয় একটি মসজিদ। পরবর্তীতে তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পায় ‘পাগলা মসজিদ’ নামে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, পাগলা মসজিদে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জড়ো হন মসজিদে। মানত পূরণ হওয়ায় এবং পূরণ হওয়ার আশায় প্রচুর দান করেন। দিন দিন বেড়ে চলেছে দানের পরিমাণ।
রীতি অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর খোলার কথা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। তবে এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়। এক মাত্র ১৮ দিন বাদে খোলায় নতুন করে আরও দুটি দানবাক্স যুক্ত করা হয়। শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ টাকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। এরপর সকাল ৯টায় শুরু হয় গণনা। প্রথমে লোহার সিন্দুকগুলোর তালা খুলে একে একে বস্তায় ভর্তি টাকা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে টাকা ঢেলে শুরু হয় বান্ডেল তৈরির কাজ। পাগলা মসজিদ নূরানী কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১০০ জন শিক্ষার্থী, শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়ার ২০০ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি টাকা গোনার কাজে অংশ নেন। টাকা গোনার কাজে ইলেকট্রনিক মেশিন ব্যবহার করা হয়। রাত আটটা নাগাদ শেষ হয় টাকা গোনার কাজ। দানবাক্সের টাকা গণনাকে কেন্দ্র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
এদিন টাকার পাহাড়ের মাঝে বেশ কয়েকটি চিরকূট মেলে। তাতে বিভিন্ন ভক্তরা নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে একটি চিরকূট খোলার পরে থ মেরে যান প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। ওই চিরকূটে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে, শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’ উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অগস্ট পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ‘অপারেশন সাইক্লোন’ অভিযানে ক্ষমতাচ্যূত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সেনা অভ্যুত্থানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দিল্লি পালিয়ে যান।