নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর কয়েক মূহুর্ত এরপরই মর্ত্যে বাপের বাড়ি আসছে উমা। দুর্গা পুজোর সময় প্রত্যেক বছর নানান রংয়ের থিমে ও সাবেকিয়ানায় সেজে ওঠে মা দুর্গা। তেমনই বাংলাদেশের নাটোরের একজন প্রতিমাশিল্পী সোনালি রঙের ধান দিয়ে দুর্গাপ্রতিমার অবয়ব একেঁছেন।তাঁর এই অভিনব উদ্যোগে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে গোটা বাংলাদেশে। এবার ধান দিয়ে সাজানো মায়ের পুজা হবে নাটোর শহরের লালবাজার কদমতলার রবি সূতম সংঘের মণ্ডপে। ইতিমধ্যেই ভক্তদের সমাগমে ভরে উঠেছে এই পুজো মন্ডপ।
এই প্রতিমাটি তৈরি করেছেন লালবাজারের প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পালের নেতৃত্বে চার সদস্যের শিল্পী দল।প্রতিমাটিতে দেখা যাচ্ছে ধান দিয়ে সাজানো,সুক্ষ্ম কারুকার্যে তৈরি করা হয়েছে। সোনালী ধান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দুর্গতিনাশিনীকে।
এই নিয়ে প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পাল জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। প্রতিবছরই আয়োজকেরা প্রতিমায় নতুনত্ব চান।নতুন কিছু করার অনুরোধ করেন। এবার রবি সূতম সংঘ তাঁদের মণ্ডপের জন্য সোনালি ধান দিয়ে মোড়ানো প্রতিমা তৈরির আবদার করেন। কাজটা খুব সহজ নয় জেনেও তবুও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি কাজটি শুরু করেন।
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ধান বসানো শেষ হওয়ার পর দেখে মনে হচ্ছে, প্রতিমাটি সোনায় মোড়ানো হয়েছে। একটি একটি করে ধান বসানোর কাজটা খুবই চ্যালেঞ্জের। কারণ, এভাবে ৫০ হাজারেরও বেশি ধান বসাতে হয়েছে। এরপর রংতুলির আঁচড়ে চোখ-মুখসহ পুরো প্রতিমার আদিরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি আশা করেন, এমন শৈল্পিক কারুকার্যে মুগ্ধ হবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
এই নিয়ে, রবি সূতম সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায় জানান, ‘আমরা প্রতিবছরই দুর্গা প্রতিমার অবয়বে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা করি। কিন্তু থরে থরে ধান সাজিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলার কাজটা খুব সহজ ছিল না। আমরা বিশিষ্ট প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পালের শরণাপন্ন হই।’