নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘বউ মেলার’ নাম শুনেছেন ? অর্থাৎ যে মেলায় কেনাকাটা করেন মেয়েরা, বিক্রেতাও মেয়েরা। ছোটবড় সব বয়সী মেয়েরাই এখানে বেচাকেনা করে থাকেন। এজন্য মেলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বউ মেলা’। গ্রামের মেয়ে বউরা এইসময় এসে বাজার ঘুরে দেখেন। মনের মন জিনিস কেনাকাটা করেন। এবছরের বউ মেলার সেরা চমক দেখা গেল বাংলাদেশের ইছামতি নদীর তীরে। মেলায় বিক্রেতার মধ্যে ৯০ শতাংশই ছিলেন নারী। পুরুষের দেখা নেই বললেই চলে।
শারদীয়া দুর্গাপুজোর দশমীর দিন বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়া ইছামতি নদীর তীরে এবারও বসেছিল এক দিনের ‘বউ মেলা’। শত বছর ধরে চলে আসছে এই বউ মেলা। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় উপস্থিত হয়েছিল নারী-শিশুসহ সব বয়সী মেয়েরা। মেলাটি যেন হয়ে উঠেছিল নারীদের বিনোদনকেন্দ্র। কি নেই এখানে ? খাবার জিনিস থেকে শুরু করে হরেক রকম প্রসাধানী দিয়ে সাজানো এই বউ মেলা।
রবিবার সকাল থেকে মেলায় বাহারি পণ্য নিয়ে বসেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষ ব্যবসায়ীরা। মেলায় ছিল মিষ্টান্ন, হরেক রকম শিশুতোষ খেলনা, চুড়ি, কানের দুল, ফিতে, আলতা, মাটির তৈরি হাঁড়ি, কলস ও বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী ও গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্রে ভরে উঠেছিল ইছামতী নদির তীর।
মেলার নিরাপত্তা নিয়ে ধুনট থানার ওসি জানান, দুর্গাপুজো উপলক্ষে বসা এই মেলায় আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেইদিকে সর্বদা নজর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর।
এই মেলায় আগত সিরাজগঞ্জের এক দর্শনার্থী বলেন, এটা শুধু পুজো উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মেলা নয়। মেলাটি সার্বজনীন। মেলায় নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী ইচ্ছেমতো ক্রয় করা যায়। প্রতি বছর কেনাকাটার জন্য তিনি এই মেলায় আসেন।
মেলায় অবশ্য দোকান দিয়েছেন বহু ব্যবসায়ী। নারীদের পাশাপাশি পুরুষও রয়েছে কিছু। একজন নারী ব্যবসায়ী জানান, ‘প্রতি বছরই মেলায় আসি। বিক্রি হয় অনেক। মেলার পরিবেশ ভালো। এই মেলার জন্য তাঁরা একটি বছর অপেক্ষায় থাকেন।’