নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রাণের উৎসবের দিনগুলিতে যাতে হতদরিদ্র মানুষদের মুখেও একরাশ অনাবিল হাসি ফুটে ওঠে তার জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবারেও ‘এক টাকার বাজার’-এর আয়োজন করেছিল বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) মহা সপ্তমীর দিনেই আয়োজন করা হয়েছিল গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর বাজার। আর সেই বাজার থেকে কেউ এক টাকায় কিনলেন নতুন শাড়ি, প্রিয় সন্তানের জন্য নতুন জামা, কেউ আবার এক টাকা দিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলেন চাল-ডাল-সুজি সহ গেরস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। আর ‘এক টাকার পুজোর বাজার’ থেকে বেরনোর সময়ে সবার চোখে-মুখে ছিল খুশির আমেজ, গাল ভরা হাসি।
বাঙালির প্রাণের উৎসব শারদোৎসবের দিনগুলিতে যাতে হতদরিদ্র মানুষ মুখ কালো করে ঘরে বন্দি না থাকেন, তার জন্য গত কয়েক বছর ধরেই এক অভিনব বাজারের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। এদিন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জামালখানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বসেছিল ওই বাজার। নন্দ ফাউন্ডেশন। বাজারে পোশাক ও চাল-ডালের পাশাপাশি চিনি, নারকেল, সুজি, ডিম, তেলসহ প্রায় ২১ রকমের পণ্য সাজানো ছিল। এক টাকার বিনিময়ে পরিবারের দু’জনের নতুন পোশাক ও এবং পাঁচ ধরনের যে কোনও পণ্য কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রেতারা।
‘এক টাকার পুজোর বাজার’ থেকে বেরনোর সময়ে রানি বালা উচ্ছ্বাস চাপতে না পেরে বলেন, ‘পুজোর সময়ে এমন আয়োজন আমাদের মতো গরিবদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এখান থেকে কিছু নতুন পোশাক নিয়েছি। সঙ্গে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও। আনন্দেই কাটবে পুজো।’ গরিব মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুশি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামালউদ্দিনও। তাঁর কথায়, ‘অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নিম্ন আয়ের লোকজনের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠছে। আয়-ব্যয়ের হিসেব মিলাতে যেখানে কষ্ট হচ্ছে, সেখানে উৎসবগুলো তাদের কাছে এক প্রকার বিলাসিতা ও অসম্ভব ব্যাপার হয়ে উঠছে। এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের তো দূরে থাক, পরিবারের শিশুদের জন্যও কিছু কিনতে পারছেণ না। তাদের জন্যেই মূলত আমাদের এই আয়োজন।’