নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়, ও ভাইরে! পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আর সেই তদন্ত করতে গিয়েই সহকর্মী কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লেন পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর। শুধু তাই নয়, প্রেমিকাকে দিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে পদস্থ কর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অপমানে আর অভিমানে দু’দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন কনস্টেবল। তবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশ মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে পরকীয়ার প্রমাণও মিলেছে। তবে রহস্যজনক কারণে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অর্থাৎ শেখ হাসিনার জমানার অবসানের পরে এসআই আবদুর রউফকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানায় বদলি করা হয়। আর রাজশাহী মহানগর পুলিশ থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর একটি পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি হন ভুক্তভোগী কনস্টেবল। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের পড়াশোনার অছিলায় তাঁর স্ত্রী রাজশাহীর সাধুর মোড়ে নিজেদের পৈত্রিক ভিটেতেই বসবাস করেন। বাপের বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বোনদেরন মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এক শ্যালিকা বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রউফ।আর তদন্তের নামে কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। প্রথমে শ্বশুরবাড়িতেই ভাড়াটিয়া হিসাবে ওঠেন। তার পর রান্না করার সমস্যার কথা বলে তাদের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করতে থাকেন। কার্যত একই ঘরে বসবাস করতে থাকেন দুজনে।
ভুক্তভোগী কনস্টেবলের কথায়, ‘ছুটিতে বাড়িতে এসআই রউফের সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারি। স্ত্রীও চাপের মুখে তা স্বীকার করেন এবং জানান, রউফের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না। কিন্তু আমি ফের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরে আমার স্ত্রী এবং রউফ ফের ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, রউফ বর্তমানে আমার স্ত্রীকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না। আমার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে দিয়ে ডিআইজির কাছে অভিযোগ করিয়েছেন। আদালতে পণের মিথ্যা মামলাও দিয়েছেন। আমাকে চাকরিচ্যুত করতে নানা চেষ্টা চালিয়েছেন। ওই এসআই আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন। এই সব কারণে আমার দু’বার স্ট্রোক হয়েছে। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি। দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলাম।’
যদিও কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টর। উল্টে তাঁর দাবি, ওই কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে তিনি চেনেন না। যদিও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার পক্ থেকে পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া ১২৭ পাতার রিপোর্টে রউফের বিরুদ্ধে কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার সত্যতার কথা জানানো হয়েছে।