নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় সংস্কৃতিতে দেন দেবীর পুজোকে সুখ ও সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বলা হয় যে ব্যক্তি নিয়মির পূজার্চনা করেন তাঁর যে কেবল ইচ্ছাপূরণ হয় তাই নয়, ঘরে ইতিবাচক শক্তিও পুরোদমে বজায় থাকে।
প্রায়শই দেখা যায় মানুষ প্রতিদিন সকালে তাঁদের ঘরের সিংহাসনে থাকা মূর্তিকে স্নান করায়। স্নানের জল হল চরণামৃত বা পঞ্চামৃত। গন্ধ ও পুস্পসহ সেই জল ভগবানের চরন বেয়ে নেমে আসে। বহু মানুষের মনে এই প্রশ্ন থাকেই সেই জল দিয়ে পুজো হয়ে গেলে কী করতে হয়। স্নানের অবশিষ্ট জল দিয়ে কী বা করা যেতে পারে?
কেউ ঠাকুরের স্নানের জল বেসিনে ফেলে দেন। কেউ আবার প্রসাদ ভেবে পান করেন। জগৎগুরু শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এই বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। স্বামীজির মতে, ঈশ্বর যে জলে স্নান করেন তা সাধারণ জল নয়। এটি স্বয়ং ঈশ্বরের চরণামৃত। তাই এই জলকে সম্মান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আচার্য বলেছেন, “ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি বস্তু তা সে জল, বস্ত্র বা প্রসাদ যাই হোক না কেন, স্বয়ং ঈশ্বরেরই এক রূপ। ঈশ্বরকে যেমন সম্মান করা হয় তেমনই তাঁর বস্তুকেও একইভাবে সম্মান করা উচিত।
স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ আরও বলেন যে শাস্ত্রেও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে ভগবানের স্নানের জন্য ব্যবহৃত জল ওপচয় করা উচিত নয়। ঠাকুরের মূর্তিকে স্নান করানোর জল ঢেলে দিন গাছের গোড়ায়। এঁর মাধ্যমে শুধু যে জলকেই সম্মান জানানো হবে তাই নয়, পাশাপাশি প্রকৃতিরও সেবা করা হবে।