আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সদ্যই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। ইজরায়েল জানিয়েছিল, হামলার সময় সদর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন নাসরুল্লাহ। তবে তিনি এই হামলার পর থেকে তাঁর কোন খবর পাওয়া যায় নি। তিনি বেঁছে আছেন, নাকি নিহত হয়েছেন তা জানা যায় নি। তবে নাসরুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, তিনি বেঁচে আছেন এবং শারীরিকভাবে ভালো আছেন।
নাসরুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার পর তিনি সুস্থ রয়েছেন। তিনি এখন নিরাপদে রয়েছেন। এই নিয়ে ইরানের একজন ঊর্ধত্বন কর্মকর্তা জানান, তেহরান তারঁ (নাসরুল্লাহর) অবস্থান জানার চেষ্টা করছে।
এর আগে নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ইজরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ‘নাসরুল্লাহ মারা গেছেন এমন মন্তব্য করার সময় আসেনি।’ তবে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তাঁরা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী ইসমাইল এবং তার ডেপুটি হোসেইন আহমেদ ইসমাইলকে হত্যা করেছে। কিন্তু নাসরুল্লাহ আদেও আহত বা নিহত হয়েছে কিনা তা নিয়ে কিছু জানায় নি তাঁরা।
ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর মূল হেডকোয়ার্টার লক্ষ্য করে বোমা ফেলা হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, ইজরায়েলের বোমা হামলার টার্গেটে ছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ।
তবে হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরুল্লাহ বেঁচে গেলেও এই হামলায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলায় দাহিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকটি উঁচু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। ভবনের ধ্বংসস্তূতের নিচে অনেকে আটকে আছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকার্য চলছে। সেখান থেকে অন্তত দুইজনের মৃতদেহ বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার(২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় হারিত রিক এবং দাহিয়েহ এলাকা লক্ষ্য করে কমপক্ষে ১৫টি মিসাইলসহ বোমা হামলা চালায় ইজরায়েল। বাংকার বাস্টার নামক এই বোমার ওজন প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড। যার আঘাতে পুরোপুরি মাটিতে মিশে যায় অন্তত ডজনখানেক বাস ভবন। এই ঘটনায় হতাহতের সম্ভাবনা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা ধ্বংসস্তুপের অনেকে আটকে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে।