নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস জমানায় গত সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে ছিনতাই-খুনের মতো অপরাধমূলক কাজকর্ম। পাশাপাশি মহিলাদের উপরে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা মাত্রা ছাড়িয়েছে। উপরন্তু কট্টর মৌলবাদী ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সফর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রক। মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সতর্কতা জারি তদারকি সরকারের পক্ষে যথেষ্টই বিড়ম্বনার বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
শনিবার (৮ মার্চ) মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো বাংলাদেশ ভ্রমণ নিয়ে লেভেল-৩ পরামর্শ সতর্কতা জারি করেছে। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা সামান্য বা কোনও সতর্কতা ছাড়াই পরিবহনকেন্দ্র, বাজার, শপিং মল, সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, পর্যটনকেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করতে পারে। ফলে বাংলাদেশে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। আপাতত না আসা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সেনা বিদ্রোহের জেরে গত ৫ অগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দেশত্যাগের পরেই পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও শান্ত হয়নি বাংলাদেশ। বরং অশান্তির আগুনে জ্বলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সেই সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলি নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গত শুক্রবারই জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর মিছিলকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী ঢাকা। পরিস্থিতি সামলাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানোর পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করতে হয়েছে পুলিশকে। প্রকাশ্য দিবালোকেই চলছে ছিনতাই, ডাকাতি, খুনের মতো ঘটনা। গত সপ্তাহে মুদ্রা ভাঙাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন বাংলাদেশে বড়াতে আসা দুই ইরানি নাগরিকও।