আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধরে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোর অভিযোগে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে জড়িত দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল মালয়েশিয়া পুলিশ। আজ শুক্রবার (১৫ অগস্ট) মালয়েশিয়ার একটি দায়রা আদালতে মামুন আলী ও রেফাত বিশাত নামে ওই দুই জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। বিচারক শুনানির সুবিধার জন্য দুই বাংলাদেশি আইএস জঙ্গির জন্য দোভাষী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। দুই বাংলাদেশির মধ্যে মামুন আলীর বয়স ৩১ বছর। আর রেফাত বিশাতের বয়স ২৭ বছর। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
চলতি বছরের জুনে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে এসে ওই ৩৬ বাংলাদেশি জঙ্গি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিল। মালয়েশিয়ার মাটিতে আইএসের শাখা খুলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি মোটা অঙ্কের তহবিলও গড়েছিল। গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের উচ্ছেদের পিছনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নজর রেখে চলেছিলেন ওই ৩৬ জঙ্গির উপরে। ২৪ এপ্রিল থেকে সেলাঙ্গর ও জোহর রাজ্যে তিন দফায় বিশেষ অভিযান চলিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাদের। ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে শাহ আলম ও জোহর বাহরু সেশনস কোর্টে মামলা চলছে।’
গত মাসেই আইএসের সঙ্গে জড়িত চার জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। মালয়েশিয়ার পুলিশ চার্জশিটে জানিয়েছে ‘ধৃত মামুন আলী ফেসবুকে ‘সাইফুল্লাহ আলম’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে আইএসের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিল। আইএসের হয়ে অর্থ সংগ্রহ করছিল। আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস ও ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে সিরিয়া ও বাংলাদেশে ‘আইএসের জন্য’ অর্থ পাঠাত। আর বিশাতের মোবাইল ফোনে আইএসের পতাকা পাওয়া গিয়েছে।’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামুন আলীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩০ বছরের জেল, সঙ্গে জরিমানা হতে পারে। আর বিশাতের সত্বোচ্চ সাত বছরের জেল হতে পারে।