নিজস্ব প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ: পহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে আরত যে কোনও মুহুর্তে প্রত্যাঘাত করতে পারে এমন আশঙ্কায় ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছে পাকিস্তান সরকার। ইসলাম বিপন্ন বলে চিৎকার করে মুসলিম দেশগুলিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আর সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানকে বাঁচাতে যুদ্ধজাহাজ পাঠালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এর্ডোয়ান। রবিবারই (৪ মে) ওই যুদ্ধজাহাজ টিসিজি বায়ুকাডা করাচি বন্দরে ভিড়েছে। আর তাতেই উল্লসিত পাক নৌসেনার আধিকারিকরা। তাদের মতে, আরব সাগর থেকে ভারতের নৌসেনার হামলা রুখতে তুর্কি যুদ্ধজাহাজই যথেষ্ট। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় নৌসেনার আক্রমণ রুখতেই করাচি বন্দরে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে তুরস্ক।
বরাবরই পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তুরস্কের অস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা পাক সেনাবাহিনী। শাহবাজ শরিফের দেশের সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ড্রোন, এমনকি যে সমস্ত ডুবোজাহাজ রয়েছে তার অধিকাংশই তুরস্কের। পহেলগাঁও কাণ্ডের পরেই পাক সরকারের তরফ থেকে তুরস্ক থেকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র কেনা হয়েছে। ওই অস্ত্র রক্ষা ইজারাও নিয়েছে তুর্কি সরকার।
সূত্রের খবর, শুধু তুরস্ক নয়, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মুসলিম দেশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে সৌদি আরব, তেমনই রয়েছে কাতার-ইরান। আগামিকাল সোমবারই (৫ মে) ইসলামাবাদে আসছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচ্চি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। ইসলামাবাদের পাশাপাশি দিল্লিও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভাতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। চরম সঙ্ঘাতের রাস্তায় যাতে না হাঁটে দুই দেশ সেই চেষ্টা চালাবেন তিনি।