আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডের জেরে সাসপেন্ড থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনওয়াত্রা। বর্তমানে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেয়। বরখাস্ত হওয়ার পর পেতংতার্ন সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দেশের সাংবিধানিক আদালতে পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আদালত মামলা গ্রহণ করে রায় না বের হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত ৭-২ ভোটে পেতংতার্ন সিনওয়াত্রাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের কথা বলার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপ প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুনপ্রয়াংকিত।
কল রেকর্ডে এমন কী ছিল যে, তার জন্য শাস্তি পেতে হল সিনাওয়াত্রাকে? জানা গিয়েছে, সিনওয়াত্রা ফোনে কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ‘কাকু’ বলে ডেকেছেন। যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে চরম সমস্যা, তখন কীভাবে অন্য দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে গোপন তথ্য আলোচনা করছেন সিনওয়াত্রা? ফোনে শোনা গিয়েছে, দেশে চাপের মুখে রয়েছেন এবং হুন সেনকে বিরোধী পক্ষের কথা না শোনার অনুরোধ করেছেন। এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।
এরপরই থাইল্যান্ডের জোট সরকারের অন্যতম শরিক পার্টি জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসে। যারফলে সিনওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন দল শক্তি হারাতে শুরু করে। পাশাপাশি, তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মাত্র ১০ মাস আগে ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী তিনি।