আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৫ বছরের এক কিশোরকে কান ধরে স্কোয়াটের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তার ফল হল মারাত্নক। ১০০০ বার স্কোয়াট (মাথার পিছনে হাত দিয়ে ওঠবোস) করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল কিশোর। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তার। পরিস্থিতি এমন হয় যে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
কিশোরের নাম আজুন। চিনের বাসিন্দা সে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে গাড়ি থেকে টাকা চুরি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যেহেতু তার বয়স ১৬ বছরের কম ছিল, তাই পুলিশ তাকে জেলের পরিবর্তে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছিল। কিশোরের বাবা জিয়াং পেইফেং ভেবেছিলেন এটি সন্তানের আচরণ উন্নত করতে সাহায্য করবে।
সংশোধনাগার থেকে একদিন জিয়াং পেইফেংকে ফোন করে জানানো হয় যে আজুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন আজুনের সারা শরীর ফুলে গিয়েছে, গোটা দেহ ঘায়ে ভরে গিয়েছে।
বাবা পরে জানতে পারেন যে আজুন এবং অন্যান্য ছাত্রদের সংশোধনাগারের একজন ড্রিল প্রশিক্ষক শাস্তি দিয়েছিলেন। সেই শাস্তি ছিল ৪৫ মিনিটে হাজারবার স্কোয়াট করা। এই কঠোর আচরণের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয় আজুনের শরীরে।
আজুনের কথায়, “প্রশিক্ষক আমাকে মাথার পিছনে হাত দিয়ে স্কোয়াট করতে বাধ্য করেছিলেন। আমি প্রায় ১,০০০ বার গুণেছিলাম। পরে আমার পা কাঁপছিল, আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না।”
এর পরেই আজুনের মূত্র দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। পা ফুলে যায়। কিডনির সমস্যা ধরা পড়ার পরেও, তার কঠোর প্রশিক্ষণ অব্যাহত ছিল। প্রশিক্ষক তাকে চড় ও লাথিও মারেন।
জিয়াং পেইফেং তাদের বাড়ি বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য ৪,৫০,০০০ ইউয়ান (₹৫৪ লক্ষ) জোগার করেন। ডাক্তাররা নিশ্চিত করেছেন যে ছেলেটির এই শারীরিক অবস্থা কঠোর শাস্তির কারণে হয়েছে।
স্কুল এবং স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ১৮ জুন মামলাটির আবার শুনানি হয়। তবে রায় এখনও বিচারাধীন।
এই ঘটনাটি চিনে জনসাধারণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সেই সঙ্গে এই ধরনের সংশোধনমূলক স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।