আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের হিন্দু টিকটকারকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল দু’জনকে। জানা গিয়েছে তিনি পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঘোটকি জেলার বাসিন্দা। শনিবার কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। ঘোটকির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) মহম্মদ আনোয়ার খেত্রানের মতে, শুক্রবার বিকেলে বাগোওয়াহ এলাকায় নিজ বাসভবনে সুমিরা রাজপুত নামে ওই হিন্দু টিকটকারের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর টিকটকে ৫৮,০০০ এরও বেশি ফলোয়ার এবং দশ লক্ষেরও বেশি লাইক ছিল।
ওই টিকটকারকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে পুলিশ দুই সন্দেহভাজন বাবু রাজপুত এবং মহম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করেছে। মৃতের বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। “সুমিরা রাজপুতের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, তাতে জানা গিয়েছে যে বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।” এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন খেত্রান।
মৃত টিকটকার সুমিরা রাজপুতের ১৫ বছর বয়সি মেয়ের দাবি তাঁর মাকে জোর করে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। যারা চাপ দিচ্ছিল তারাই এই কাজ করেছে। রাজপুতের মেয়ের দাবি, সন্দেহভাজনরা তার মাকে বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়েছিল। মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. সর্বানন্দ বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে শারীরিকভাবে কোনও হিংসার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
দু’মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাকিস্তানে তিন জন তরুণী টিকটকআরের মৃত্যু হল। সুমিরা রাজপুতের হত্যা তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ১১ জুলাই রাওয়ালপিন্ডিতে একজন বাবা তাঁর মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে। কারণ মেয়ে টিকটক থেকে নিজের অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে চাননি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পাকিস্তানে অনলাইন স্থান সহ জনসমক্ষে কীভাবে আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে কঠোর নিয়ম না মানার জন্য পরিবারের সদস্যরা নারীদের উপর রীতিমতো অত্যাচার চালায়। এই কারণে নারীদের হিংসার শিকার হতে হয়।
ইসলামাবাদের পুলিশ প্রধান সৈয়দ আলি নাসির রিজভীর মতে, গত ২ জুন ১৭ বছর বয়সী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সানা ইউসুফকে তাঁর ইসলামাবাদের বাড়িতে আর এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার উমর হায়াত গুলি করে হত্যা করে। ২২ বছর বয়সী উমর হায়াতের প্রেম প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করছিলেন সানা। তাই তাকে হত্যা করে প্রত্যাখানের জবাব দেয় উমর।