Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

‘আই মিস ইউ মাম্মি’, ফাঁসি রদের আর্জি জানাতে ইয়েমেনে পৌঁছল নিমিশা প্রিয়ার কিশোরী মেয়ে

Share:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের রাজধানী সানার জেলে বন্দিদশায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন কেরলের বাসিন্দা তথা পেশায় নার্স নিমিশা প্রিয়া। গত ১৬ জুলাই ফাঁসি কার্যকর করার কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফাঁসির পরিবর্তে যাতে অন্য কোনও শাস্তি দেওয়া হয় তার চেষ্টা চলছে। যদিও যাকে খুন করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছে নিমিশা, সেই তালাল আব্দো মাহদির পরিবার অবশ্য ফাঁসির সাজা কার্যকরের পক্ষে জোরালো দাবি জানিয়েছে। এবার মায়ের ফাঁসির সাজা রদের আর্জি জানাতে ইয়েমেনে পৌঁছল নিমিশার ১৩ বছরের মেয়ে মিশেল। বাবা টমি থমাস ও নিমিশার ফাঁসি রদের চেষ্টা চালানো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্লোবাল পিস ইনিশিয়েটিভের প্রধান কে এ পলের সঙ্গে ইয়েমেনে পৌঁছেছে ছোট্ট মিশেল।

ইয়ে্মেনে পৌঁছনোর আগেই এক আবেগপ্রবণ ভিডিও বার্তা জারি করেছে ১৩ বছরের মিশেল। এক দশক মায়ের মুখ না দেখতে পাওয়া একরত্তি মেয়েটি ওই ভিডিও বার্তায় বলেছে, ‘মা তোমায় আমি ভীষণ-ভীষণ ভালবাসি। আমি তোমায় মিস করছি মা।’ গর্ভধারিণীকে দেশে যাতে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ফের মায়ের স্নেহ আর ভালবাসা মেলে তার জন্য নিমিশাকে মুক্তি দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ছোট্ট মিশেল ওই ভিডিও বার্তায় বলেছে, ‘দয়া করে আমার মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাহায্য করুন।’

কেন ইয়েমনে ফাঁসির সাজা পেতে হল ভারতীয় মেয়ে নিমিশা প্রিয়াকে?

কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা পেশায় নার্স নিমিশা স্বামী টমি থমাস এবং মেয়েকে নিয়ে ইয়েমেনে থাকতেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে সেখানকার এক বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন নিমিশা। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরে এলেও ইয়েমেনেই নিজের ক্লিনিক খোলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে থেকে যান তিনি। ওই বছরই ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিমিশার। মাহদি তাঁকে নতুন ক্লিনিক খুলতে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন। কারণ, ইয়েমেনের আইন অনুযায়ী, সে দেশে নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে দেশীয় অংশীদারের দরকার হয়। ২০১৫ সালে মাহদি ও নিমিশা মিলে নতুন ক্লিনিক খোলেন। এর পর থেকেই দু’জনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ, নিমিশার টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মাদকসেবনেও বাধ্য করেন মাহদি। বিরোধ বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেন মাহদি, যাতে কোনও ভাবেই নিমিশা ইয়েমেন ছাড়তে না-পারেন। আইনি কাগজপত্রে নিমিশাকে নিজের স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন মাহদি, ফলে নিমিশার প্রশাসনিক সাহায্য পাওয়া জটিল হয়ে পড়ে।

মাহদির প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনও লাভ হয়নি নিমিশার। মাসখানেক জেলে থাকার পরেই ছাড়া পেয়ে যান মাহদি। জেল থেকে বেরিয়ে নিমিশার জীবন আরও দুর্বিষহ করে তোলেন তিনি। ফলে ওই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অন্য পথ বেছে নেন নিমিশা। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন ওই নার্স। ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় মাহদির। এর পর হানান নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে মাহদির দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন। ওই মাসেই ইয়েমেন ছেড়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান নিমিশা। অংশীদার মাহদিকে হত্যার দায়ে ২০১৮ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত। মৃত্যুদণ্ড পান নিমিশা। তার পর থেকে ৩৬ বছর বয়সি নিমিশাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করেছে তার পরিবার। শেষ চেষ্টা হিসাবে ‘দিয়া’ (নিহতের পরিবারের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অঙ্ক) দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন নিমিশার মা প্রেমা কুমারী। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। গত বছর নিমিশার সাজা মকুবের শেষ আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে। তার পরেই ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি গত ৩০ ডিসেম্বর নিমিশার মৃত্যুদণ্ডের সাজায় স্বাক্ষর করেছেন।

 

 

বুধেই ইয়েমেনে ফাঁসি কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়া-র, ‘কিছু করার নেই’, জানাল কেন্দ্র

ইয়েমেনে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নার্সকে সর্বাত্মক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বিদেশ মন্ত্রকের

কেরলের নার্সের মৃত্যুদণ্ডের সাজা রদের আর্জি খারিজ ইয়েমেনের আদালতে

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00