আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোর বারসালোঘো শহরে ভয়াবহ হামলা। কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রায় ৬০০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে আল কায়দার জঙ্গীরা। আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বারসালোঘোতে গত আগস্টে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(৪ অক্টোবর) এক রিপোর্টে এমন দাবি করা হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট বারসালোঘোর বাসিন্দাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংস্থা জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমের (জেএনআইএম) সদস্যরা বাইকে করে এই এলাকায় প্রবেশ করে এবং বাসিন্দাদের গুলি করে হত্যা করে। আক্রমণের শিকার বেশিরভাগই মহিলা ও শিশুরা। বলা যেতে পারে এই ভয়ংকর হামলা পশ্চিম আফ্রিকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর হামলা।
হামলার পর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রথমে নিহতের সংখ্যা আনুমানিক ২০০ জন জানানো হয়। পরে জেএনআইএম জানায়, তারা অন্তত ৩০০ জন ‘যোদ্ধাকে’ হত্যা করেছে। এই হামলায় অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনী জঙ্গিদের থেকে নিরাপদে থাকতে বারসালোঘোয় পরিখা খননের নির্দেশ দিয়েছিল ঘটনার দিন পরিখা খনন করছিলেন। এই নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, তিনি ওই শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথম গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি জানান, ‘আমি পালানোর জন্য পরিখায় হামাগুড়ি দিতে লাগলাম। মনে হলো হামলাকারীরা পরিখাগুলোই অনুসরণ করছে।’
ঐ প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, তিনি বেশ ভয় পেয়ে যান। হামাগুড়ি দিয়েই বের হয়েই তিনি রক্তাক্ত মৃতদেহের সারি দেখতে পান। সেখানে শুধু রক্ত এবং চিৎকার ছিল।
এই হামলায় পরিবারের দুইজন সদস্যকে হারানো প্রাণে বেঁচে যাওয়া আরও একজন বলেন, জেএনআইএম সারাদিন ধরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তিনি বলেন, তিনদিন ধরে তাঁরা শুধু মৃতদেহ সংগ্রহ করেছেন। সেখানে শুধু হাহাকার আর রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল।