নিজস্ব প্রতিনিধি : পেটের দায়ে মানুষ কিনা করে! তাই বলে চাকরি বাঁচানোর দায়ে মুখের মধ্যে জলন্ত আগুন পুরে নেবে! অবাক হওয়ার কিছুই নেই। এমনটা বাস্তবে ঘটেছে। চাকরি বাঁচাতে মুখের মধ্যে পুরে নিল জলন্ত তুলো। যা নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছে চিনে। সকল কর্মীকে জোর করে আগুন মুখের মধ্যে পুরে দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে একটি চিনা প্রতিষ্ঠান। চাকরি হারানোর ভয়ে একজন মহিলা কর্মী বাধ্য হয়ে মুখের মধ্যে জলন্ত তুলো পুরে নেন। ফলে ওই মহিলার জিভ জ্বলে পুড়ে যায়।
এই নিয়ে ওই মহিলা কর্মী আরও জানান,তাঁদের মুখের মধ্যে আগুন পুরে দেওয়া কোন শাস্তি নয়। বরং এটির উদ্দেশ্য হল কর্মীদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি বাড়ানো। কাজের মধ্যে এনার্জি আনার জন্য এমন কর্মকান্ড করতে বাধ্য করেছে তাঁদের।প্রতিষ্ঠানটির কতৃপক্ষের বক্তব্য এতে কাজ করার প্রতি আগ্রহ বাড়বে কর্মীদের। এমন ভয়ানক কান্ডকে অপমানজনক কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন ওই মহিলা কর্মী। এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নেটপাড়ার একাংশ। চিনা সামাজিক মাধ্যমে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন ‘শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য এখনও লড়তে হবে।’ আবার কেউ বিষয়টির পরিহাস করেছেন। অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে’।
এসসিএমপির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনা শুধু রংরং নামের এই কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রেনঝং নামের পূর্ব চীনের একটি দল-নির্মাণ সংস্থা তাঁদের কর্মীদের ‘ফায়ার ইটিং’ কৌশল শেখায়। এর জন্য় আলাদা করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাঁদের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অফিসে কাজের পরিবেশ চিনে একটার পর একটা অভিযোগ সামনে আসছে। কর্মীদের অভিযোগ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করতে গিয়ে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁদের। কিছুদিন আগেই গেম হেরে যাওয়ায় অফিসের এক কর্মীকে রাস্তায় হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।